মাইক্রো ইভোলিউশন: মেকানিজম পরিচয়: শেষ অংশ

মাইক্রো ইভোলিউশন: মেকানিজম পরিচয়: শেষ অংশ 


গত পর্বে আমরা জেনেটিক ড্রিফট নিয়ে আলোচনা করেছি।

আজ আমরা ফিক্সেশন এবং প্রজাত্যায়ন প্রজাতির উদ্ভব নিয়ে আলোচনা করব। তাহলেই মাইক্রো ইভোলিউশনের মেকানিজম এবং এটি কিভাবে ঘটে তা নিয়ে আমরা জানতে পারব। 

১. ফিক্সেশন ( পপুলেশন জেনেটিক্স) 

পপুলেশন জেনেটিক্সে ( বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের একটি গাণিতিক শাখা) ফিক্সেশন বলতে কোনো পপুলেশনের জিনপুলের সামগ্রিক পরিবর্তনকে বোঝায়। বিবর্তনীয় মেকানিজমগুলোতে আমরা এলিল নিয়ে আলোচনা করেছি। সব মেকানিজম কাজ করার শেষে কি হবে? কোনো এক পপুলেশনে নূন্যতম দুটো এলিল ফ্রিকোয়েন্সির কোনো একটা এলিল ওই পপুলেশনের সবার মধ্যে স্থায়ী হয়ে যাবে বা ফিক্সড হয়ে যাবে একেই ফিক্সেশন বলা হয়। মিউটেশন কিংবা হেটেরেজাইগোট এডভান্টেজ এর অনুপস্থিতিতে হয় কোনো এলিল পপুলেশন থেকে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে নয়তো সম্পূর্ণ পপুলেশনে সব প্রাণীর মধ্যে স্থায়ীভাবে ফিক্সড হয়ে যাবে।

লোকাস: 

ক্রোমোসোমের পুরোটা জুড়েই কিন্তু জিন থাকে না, পুরো ক্রোমোজোমের অল্প কিছু অংশে বিচ্ছিন্নভাবে জিন অবস্থান করে। তবে এই জিনগুলোর একটা নির্দিষ্ট অবস্থান আছে ক্রোমোসোমে, একটা নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্য। এই যে জিনের অবস্থান, বা লোকালিটি, একেই লোকাস বলে। লোকাসে কোনো সাধারণ কিংবা বিশেষ কোনো নিউক্লিওটাইড অবস্থানে থাকা একটি জিন কে ফিক্সেশন হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে। সাবস্টিটিউশন বা প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়ায় আগে বিদ্যমান ছিলো না এমন এলিল সাধারণত র‍্যান্ডম জেনেটিক ড্রিফট এবং পজিটিভ সিলেকশন বা ইতিবাচক নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো পপুলেশনের উপর ছড়িয়ে পরে। এলিল ফ্রিকোয়েন্সি যদি ১০০% হয় অর্থাৎ ধরুন পপুলেশনে প্রাণীর সংখ্যা ১০,০০০ এবং এই ১০,০০০ প্রাণীর মধ্যে নির্দিষ্ট একই এলিল ফিক্সড হয়ে গেলে তাকে এলিলের স্থায়ীকরণ বলা হয় এবং তখন এলিলটিকে পপুলেশনে ফিক্সড হয়েছে বলে বলা যাবে।

উদাহরণস্বরূপ, পাচটি ভিন্ন এলিলের খরগোশ রয়েছে কোনো পপুলেশনে সেক্ষেত্রে বাকি ৪ টি এলিল কোনোভাবে রিমুভ হয়ে কোনো একক এলিল ৫ সদস্য বিশিষ্ট জনসংখ্যায় কোনো এক প্রজন্মে গিয়ে ফিক্সড হয়ে যাবে অর্থাৎ তাদের সবার মধ্যে একই এলিল কাজ করবে।

allele fixed on the 4th population. ©Genetics


মানবপ্রজন্মে মিউটেশন এর গড়পড়তা: 

যাইহোক আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় ফিক্সেশন নিয়ে বেশি গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে এ পর্যন্ত যতসব মেকানিজম নিয়ে আলোচনা করলাম প্রায় সবই কাজ করে বিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে। এলিল ফ্রিকোয়েন্সির ফিক্সেশনের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা খুব বেশি। যেমন ধরুন, কোনো পপুলেশনে A এলিলের দল হচ্ছে সম্পূর্ণ পপুলেশনের ২০% এবং a এলিলের দল হচ্ছে পপুলেশনের ৮০% সুতরাং ৮০% সম্ভাবনা আছে যে বেশ কিছু প্রজন্ম ( অবশ্যই অসংখ্য) পর, সম্পূর্ণ পপুলেশনে a এলিল ফ্রিকোয়েন্সি ফিক্সড হয়ে যাবে। মিউট্যান্ট জিনের ক্ষেত্রে অর্থাৎ মিউটেশন গঠিত জিনের ক্ষেত্রে মানুষের এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মের মিউটেশনের সংখ্যা প্রায় ৬৪ টি। (১৯) 

মিউটেশন সাধারণত কেবল ডিএনএর নিউক্লিওটাইড এর অবস্থান পরিবর্তন, ভাঙ্গন কিংবা বিলুপ্ত করতে পারে তবে নতুন কোনো ফাংশনাল ইনফরমেশন প্রডিউস করতে পারেনা। মিউটেশনের নির্দিষ্ট কোনো হার নেই। অনেকে ধরে নেয় যে, যেহেতু মানুষের শরীরে অসংখ্য জিন রয়েছে তার উপর মিউটেশন অহরহ ঘটছে এবং তার সাথে সিলেকশন প্রেশার এবং জেনেটিক ড্রিফট এসব বিবর্তনীয় মেকানিজম কাজ করছে সেহেতু মিউটেশন এর এই অদল বদল এর মাধ্যমে মিউট্যান্ট জিন পপুলেশনে ফিক্সড হয়ে লার্জ কোনো চেইঞ্জিং তৈরি করতেই পারে। আদোতে বিষয়টি এতোটাও সহজ নয়। কারণ আগেই বলেছি মিউটেশনের নির্দিষ্ট কোনো হার নেই তার উপর বেনিফেশিয়াল মিউটেশন অত্যন্ত রেয়ার যা আমরা মিউটেশন নিয়ে আগের আলোচনায় দেখেছি। নির্দেশ ধরনের মিউটেশনের জন্য নির্দিষ্ট মিউটেশন রেট রয়েছে আমাদের এই বেসিক আলোচনায় এসবের প্রয়োজন নেই। পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। 


২. speciation: প্রজাত্যায়ন 

কোনো পপুলেশনের বিদ্যমান প্রাণীরা যদি নিজেদের মধ্যে ইনব্রিডিং বা আন্তঃপ্রজনন করতে পারে তবে তাদেরকে একটি প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। পপ্রাকৃতিক অবস্থার অধীনে সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় জিন পুল কেই প্রজাতি বলে অর্থাৎ কোনো পপুলেশনের মধ্যে যদি জিন ফ্লো চলমান থাকে তবে তাকেও প্রজাতি বলা হয়। (২০)

    ©University of California


উদাহরণস্বরূপ, এই সুন্দর মুখের মাকড়সাগুলি দেখতে আলাদা, কিন্তু যেহেতু তারা আন্তঃপ্রজনন করতে পারে, তাই তারা একই প্রজাতি হিসাবে বিবেচিত হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রজাতির সংজ্ঞা ঠিক যতটা সহজ দেখা যায় আদোতে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সংজ্ঞা নিরুপন করা প্রায় অসম্ভব এবং বেশ জটিল।


প্রজাত্যায়নঃ (২১)

বিবর্তনের ফলে একটা প্রজাতি থেকে একাধিক প্রজাতির বিবর্তন হয়। এই প্রজাতি উৎপন্ন হবার প্রক্রিয়াটাই প্রজাতিকরণ বা Speciation. প্রজাতির উত্স সম্বোধনের ক্ষেত্রে, দুটি মূল সমস্যা রয়েছে: প্রজাতির বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া এবং কিভাবে প্রজাতির পৃথকতা এবং স্বতন্ত্রতা বজায় থাকে তা বোঝা।

চার্লস ডারউইনের সময় থেকে, প্রজাতির ন্যাচার সম্পর্কে বোঝার প্রচেষ্টা প্রাথমিকভাবে প্রথম দিকের বিজ্ঞানীদের ধারণার উপর ছিলো , এবং এটি এখন ব্যাপকভাবে গৃহীত মত যে নতুন প্রজাতির উৎপত্তির পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল ( রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশন) প্রজনন বিচ্ছিন্নতা।

রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশনঃ  প্রজনন বিচ্ছিন্নতা হচ্ছে প্রজাত্যায়নের অন্যতম বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া। প্রচলিত ট্যাক্সোনমি অনুসারে কোনো পপুলেশনের প্রানীরা যদি একে অন্যের সাথে রিপ্রোডাক্টিভলি আইসোলেটেড থাকে অর্থাৎ একে অন্যের সাথে ইন্টারব্রিড না করতে পারে কিংবা ইন্টারব্রিড করার পর যদি ফার্টাইল অফস্প্রিং জন্ম দিতে না পারে তাহলে তাদেরকে একই জেনাসের আলাদা প্রজাতি হিসেবে গন্য করা হয়। রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশনের দুটো প্রকার রয়েছে। ১. প্রি জাইগোটিক এবং ২. পোস্ট জাইগোটিক।

প্রি-জাইগোটিকঃ প্রি জাইগোটিক আইসোলেশন হচ্ছে জাইগোট গঠিত হওয়ার আগের বাধা। এই প্রজনন বিচ্ছিন্নতায় দুটো প্রাণী ডিম্বানু এবং শুক্রাণু নিষিক্তকরণের মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করতে পারে না অর্থাৎ একে অন্যের সাথে সঙ্গম করতেই পারে না। যার ফলে তাদের মধ্যে জিন ফ্লো প্রবাহমান থাকেনা এবং দুটো প্রজাতি আলাদা হয়ে যায়।

পোস্ট জাইগোটিকঃ পোস্ট জাইগোটিক আইসোলেশন হচ্ছে গ্যামেট তৈরির পরের বাধা। এই প্রজনন বিচ্ছিন্নতায় দুটো প্রানী ডিম্বানু এবং শুক্রাণুর নিষিক্তকরণের মাধ্যমে জাইগোট তৈরি করতে পারে এবং বাচ্চাও জন্ম দিতে পারে। তবে ফার্টাইল অফস্প্রিং আসে না অর্থাৎ সন্তান উর্বর হয়না, জন্ম নেয়া সন্তান অন্য কোনো প্রানীর সাথে মেটিং করতে পারে না ফলে সন্তান জন্ম নিলেও প্রজাতি আলাদাই থেকে যায়।


এলোপেট্রিক প্রজাত্যায়ন 

প্রজাত্যায়নের জিওগ্রাফিক্যালি প্রজাতির মোড গুলো প্রধানত দু ধরনের এলোপ্যাট্রিক আর সিমপ্যাট্রিক। আবার এই দুই ধরনের মোডের বিশেষ প্রকার হচ্ছে যথাক্রমে প্যারাপেট্রিক এবং প্যারিপেট্রিক। বিভক্ত হবার পর এই প্রজাতিকরণ ঘটাতে কাজ করে বিভিন্ন ধরনের বিবর্তনীয় মেকানিজম যেমন ন্যাচারাল সিলেকশন, সেক্সুয়াল সিলেকশন, মিউটেশন, জেনেটিক ড্রিফট, জিন ফ্লো, সিম্বায়োসিস এসব যা নিয়ে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।


Allopatric speciation: (২২)

গ্রীক (ἄλλος) Allo শব্দের অর্থ ভিন্ন, আর Patric (πατρίς) শব্দের অর্থ পৈত্রিক নিবাস। যেই প্রজাতিকরণ পদ্ধতিতে একটি প্রজাতির মাঝে কোনো ভৌগলিক বাধা তৈরি হওয়ায় তারা দুই দলে ভাগ হয়ে যায়, এবং পরবর্তীতে আর তাদের মধ্যে জিন ফ্লো বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ তারা তারা প্রজননে অক্ষম হয়ে পরে এবং তাদের মধ্যে জিনের প্রবহণ বন্ধ হয়ে যায় তাকে এলোপ্যাট্রিক স্পিসিয়েশন বলে। জিন ফ্লো বন্ধ হয়ে গেলে দুই দলের জিনপুলের মধ্যকার মিউটেশনগুলো আদান-প্রদান হতে পারে না অর্থাৎ তাদেদ উপর ভিন্ন ভিনব মিউটেশন ঘটে, এবং তাদের ওপর ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনি চাপ কাজ করে, যার ফলে তারা ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ফিক্সেশনের শিকার হয়। দুই দল ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে এবং এভাবে একসময় তারা দুইটি নতুন প্রজতিতে রূপান্তরিত হয়। রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশন এলোপ্যাট্রিক স্পিসিয়েশনের মৌলিক কারণ হিসেবে কাজ করে যা অ্যালোপ্যাট্রিতে জেনেটিক ডাইভারজেন্স চালনা করে। প্রজাতির উচিত ভৌগলিক বাধা নানান ধরনের হতে পারে। যেমন টেকটনিক প্লেটগুইলোর চলনের ফলে পাহাড়-পর্বত, আগ্নেয়গিরি, জলাশয়, দ্বীপ,গিরিখাদ প্রভৃতি সৃষ্টি কিংবা মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলেও দুইটি এলাকার মধ্যে সীমা তৈরি হয় ও একটি প্রজাতির দুইটি দল তৈরি হতে পারে। মূলত এই ভৌগলিক বাধা তৈরির ফলে তারা একদল অন্যদলের সাথে প্রজনন ঘটাতে পারে না। এই প্রজনন ঘটে না বলেই দুই দলের জিন পুল আলাদা হতে থাকে। (২৩)

Allopatric speciation: Wikipedia 


প্রকারভেদ: 

এলোপেট্রিক স্পিসিয়েশনের দুটো মডেল রয়েছে। যথা- ১. ভিকারিয়েন্স মডেল এবং ২. পেরিপেট্রিক মডেল।

ভিকারিয়েন্স মডেলঃ বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে লিওন ক্রোইজ্যাট দ্বারা ভিকারিয়েন্ট বিবর্তনের ধারণাটি প্রথম বিকশিত হয়। । ভিকারিয়েন্স তত্ত্ব, 1960-এর দশকে প্লেট টেকটোনিক্সের গ্রহণযোগ্যতার সাথে সুসংগতভাবে গড়ে ওঠে, এড়ি ১৯৫০-এর দশকের গোড়ার দিকে এই ভেনিজুয়েলার উদ্ভিদবিদদের দ্বারা বিকশিত হয় , উদ্ভিদবিদগণ আমেরিকান এবং আফ্রিকার অনুরূপ (একই) উদ্ভিদের অস্তিত্বের একটি ব্যাখ্যা খুঁজে পেয়েছিলেন, তারা অনুমান করেন যে দুটি মহাদেশ আলাদা হয়ে যাওয়ার আগে তারা মূলত একক জনসংখ্যা ছিল। বর্তমানে, vicariance দ্বারা প্রজাতিকে ব্যাপকভাবে প্রজাতির সবচেয়ে সাধারণ রূপ হিসাবে গণ্য করা হয়। ভিকারিয়েন্স মডেল অনুযায়ী একটি প্রজাতির মাঝে যেকোনো ভৌগলিক কারণে জিন ফ্লো বন্ধ হয়ে যায়, ফলে তারা ধীরে ধীরে ভিন্ন প্রজাতিকরণের দিকে এগোতে থাকে। প্রজাতিতে যেকোনো ভৌগোলিক বাধার জন্য জনসংখ্যার জিন পুলে বিভিন্ন মিউটেশন দেখা দেয় , তারা বিভিন্ন নির্বাচনী চাপের শিকার হয় এবং/অথবা (গ) তারা স্বাধীনভাবে জিন প্রবাহের ( জেনেটিক ড্রিফট) মধ্য দিয়ে যায় । বহিরাগত বাধা দুটি জনসংখ্যার মধ্যে জেনেটিক তথ্যের আদান-প্রদানে বাধা দেয়, যা তারা অনুভব করে পরিবেশগতভাবে ভিন্ন বাসস্থানের এবং এই বাধার কারণে তারা সম্ভাব্য পার্থক্যের দিকে পরিচালিত হয় ; নির্বাচনী চাপ তখন অবিরামভাবে তাদের সম্পূর্ণ প্রজনন বিচ্ছিন্নতার দিকে নিয়ে যায় । এরপর তারা ধীরে ধীরে রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে এবং একসময় ভিন্ন প্রজাতিতে পরিণত হয়ে যায়।


পেরিপেট্রিক মডেলঃ পেরিপেট্রিক প্রজাত্যায়ন হলো প্রজাতির একটি পদ্ধতি যেখানে একটি বিচ্ছিন্ন পেরিফেরাল জনসংখ্যা থেকে একটি নতুন প্রজাতি গঠিত হয়।  যেহেতু পেরিপেট্রিক স্পেসিয়েশন এলোপ্যাট্রিক প্রজাতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ , তাই এক্ষেত্রেও এলোপেট্রিক স্পিসিয়েশনের মতোই জনসংখ্যাকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং জিন আদান -প্রদান থেকে বিরত রাখা হয় , একই মেকানিজম হওয়ায় এলোপেট্রিক এবং পেরিপেট্রিক এর মধ্যে পার্থক্য করা প্রায়শই কঠিন হতে পারে। তবুও, পেরিপেট্রিক প্রজাতির প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তা এলোপেট্রিক পপুলেশনের তুলনায় একটি তুলনায় অনেক ছোট পপুলেশন ধারণ করে।


Sympatric speciation  

গ্রীক ভাষায় Sym মানে একই, আর Patri মানে পিতৃভূমি, পিতার আর আদিপুরুষের বসবাসের স্থান। সিম্প্যাট্রিক স্পিসিয়েশনে একই ভৌগলিক এলাকার মাঝে থেকে একটা প্রজাতি থেকে আরেকটা প্রজাতির উৎপত্তি হয়। এদের মাঝে কোনো ভৌগলিক বাধা থাকে না বরং এদের মধ্যে রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশন গড়ে ওঠে হেটেরোজাইগাসদের বিপক্ষে সিলেকশন বা সেক্সুয়াল সিলেকশনের কারণে। উদাহরণস্বরুপ, মাঝারি গ্রাউন্ড ফিঞ্চ ( জিওস্পিজা ফোর্টিস ) সান্তা ক্রুজ দ্বীপের এই ফিঞ্চের জনসংখ্যার মধ্যে জিন পুলের ভিন্নতা দেখা যায়। কারণ এই ফিঞ্চের চঞ্চু বা ঠোটের আকারের উপর স্ত্রী ফিঞ্চ রা এদের নির্বাচন করে। নির্দিষ্ট কিছু নারীরা বিশেষ কিছু পুরুষদের পছন্দ বেশি করে যার ফলে তখন ধীরে ধীরে সেই নারী-পুরুষরা মূল জনসংখ্যার মাঝে থেকেও আলাদা হয়ে যায় এবং দলের এক অংশের সাথে অন্য অংশের জিন ফ্লো কম হতে থাকে ফলাফলস্বরুপ তাদের জিনপুলের ভিন্নতা দেখা যায়। (২৪)


প্যারাপেট্রিক স্পেসিয়েশানঃ

এখানে একটা প্রজাতির দুইটি দলের মধ্যে রিপ্রোডাক্টিভ আইসলেশন গড়ে ওঠে ঠিকই, তবে তাও তাদের মধ্যে সীমিত মাত্রায় জিন ফ্লো চলতে থাকে।এটা মূলত হয় আংশিক ভৌগলিক বাধা তৈরির কারণে, ফলে তারা অধিকাংশ সময় আলাদা থাকলেও মাঝে মাঝে প্রজনন ঘটাতে পারে। তবে জিন ফ্লো এর মাত্রা কম হয় বলে দুইটি দলের ওপর ভিন্ন দুইটি সিলেকশন প্রেশারের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারেনা। ধীরে ধীরে ডাইভার্জেন্ট ইভোলুশন হয়, দুইটি ভিন্ন প্রজাতি গড়ে ওঠে। এর মাঝে আবার হাইব্রিডদের জন্ম হতে পারে, যেহেতু ভৌগলিক বাধাটা আংশিক, তবে অধিকাংশ সময়ই এই হাইব্রিডদের ফিটনেস কম হয়, সার্ভাইভাল রেট কম হয়, ফলে বিলুপ্ত হয়ে যায়। ওদিকে ধীরে ধীরে রিপ্রোডাক্টিভ আইসোলেশন চরম আকার ধারণ করতে থাকে, জিন ফ্লো বন্ধ হতে থাকে, আর একসময় নতুন দুইটি প্রজাতি তৈরি হয়।

প্যারাপেট্রিক স্পেসিয়েশান এর তিনটি ফর্ম বিদ্যমান। যথা- ১.clinal ২. stepping-stone ও ৩. stasipatric speciation


১.Clinal– প্যারাপেট্রিকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী প্রজাতির জনসংখ্যা বিভিন্নভাবে একটা ভৌগলিক সীমানার মাঝে বিস্তৃত থাকে।। যখন এই জনসংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসে, তখন পপুলেশনের প্রাণীরা তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে নতুন নতুন বৈশিষ্ট্য অর্জন করে। ফলে একই প্রজাতির মাঝে নির্দিষ্ট কোনো একটা পরিবেশের প্রতি প্রতিক্রিয়ায় একটা ধারাবাহিকতা দেখা যায় এর মধ্যে আবার তাদের মাঝে জিন ফ্লো চলে, তবে কম। একেই ক্লাইন বলে এবং এরুপ প্রজাত্যায়ন কে ক্লাইনাল বলে।

২.stapping-stone– প্যারাপেট্রিক এর এই ফর্মে একই প্রজাতির নির্দিষ্ট একাধিক বিচ্ছিন্ন পপুলেশন থাকলেও তাদের মাঝে ক্লাইনের মতো ধারাবাহিক সম্পর্ক থাকেনা, জিন ফ্লো এর ধারাবাহিকতা ও রক্ষা হয়না এই ফর্মে ছোট পপুলেশনে চেইঞ্জ তাড়াতাড়ি হয় অর্থাৎ ছোট পপুলেশনে ফিক্সেশন দ্রুত হয়ে যায়।


৩.stasipatric speciation: এই ফর্মের প্রজাতির পপুলেশনে হেটেরোজাইগাসদের বিরুদ্ধে সিলেকশন অর্থাৎ ডিসরাপ্টিভ সিলেকশন দেখা যায়, হোমোজাইগাস ডমিনেন্ট আর হোমোজাইগাস রিসেসিভরা টিকে যায়। ফলে এই দুইটি ক্রোমোজোমের গঠনের দিকে ডাইভার্জেন্ট ইভোলুশন ঘটে।

এই হলো মাইক্রো ইভোলিউশন এবং এর মেকানিজম নিয়ে আমাদের সার্বিক আলোচনা। পরবর্তীতে আমরা ম্যাক্রো ইভোলিউশন এবং এর সম্ভাব্যতা, বিভিন্ন হাইপোথিসিস নিয়ে আলোচনা করব। ধন্যবাদ। 


রেফারেন্স:

১৯.https://academic.oup.com/genetics/article/148/4/1667/6034646?login=false

২০. Berlocher, Stewart H. (1998). “Origins: A Brief History of Research on Speciation”. In Howard, Daniel J.; Berlocher, Stewart H. (eds.). Endless Forms: Species and Speciation. New York: Oxford University Press. Page: 3

২১.https://onlinelibrary.wiley.com/doi/10.1111/j.0014-3820.2004.tb01586.x

২২. Coyne, Jerry A.; Orr, H. Allen (2004). Speciation. Sinauer Associates. pp. 1–545

২৩. Howard, Daniel J. (2003). “Speciation: Allopatric”. Encyclopedia of Life Sciences. eLS. doi:10.1038/npg.els.0001748

২৪.https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2493575/




Comments

Popular

ইনফিনিট রিগ্রেস - অসীমের দিকে প্রত্যাবর্তন