Posts

Showing posts with the label ইসলাম

হিজামা ( কাপিং থেরাপি), নববী মেডিসিন এবং একটি পর্যালোচনা

Image
 আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ "তোমরা যে সকল জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করো তার কোনটির মধ্যে উপকার থাকলে তা রক্তমোক্ষণের মধ্যেও আছে। " ( সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৪৭৬)  Google photo *ইতিহাসঃ' প্রাচীন গ্রীসে , হিপোক্রেটিস (আনুমানিক 460 - 370 খ্রিস্টপূর্বাব্দ) শরীরের অভ্যন্তরীণ রোগ এবং কাঠামোগত সমস্যার জন্য কাপিং ব্যবহার করতেন এবং রোমান সার্জনরা এটি রক্তপাতের জন্য ব্যবহার করতেন । পদ্ধতিটি মুহাম্মদ (সাঃ) দ্বারা অত্যন্ত সুপারিশ হওয়ায়মুসলিম বিজ্ঞানীরা ভালভাবে অনুশীলন করেছিলেন, এবং তারা এই পদ্ধতিটিকে আরও বিশদ ও বিকাশ করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবে, এই পদ্ধতিটি তার একাধিক আকারে এশীয় এবং ইউরোপীয় সভ্যতা জুড়ে ওষুধ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলিমদের মধ্যেও এর বেশ ভালো ব্যবহার দেখা যায়। (১)  দুই দশক পূর্বেও হিজামা বা কাপিং থেরাপি নিয়ে তেমন গবেষণা ছিলো না। তাছাড়া এর মেকানিজম নিয়ে গবেষণা তুলনামূলক কম হওয়ায় এর ব্যাপারে সাইন্টিফিক তত্ত্ব ও কম ছিলো। এবং অন্তত ২০১০ পর্যন্ত এর তেমন গবেষণা ছিলো না এবং প্রতিকুল ঘটনা গুলোই কেবল আলোচনায় আসতো। কাপিং থেরাপি নিয়ে ২০১৪ পর্য...

আম্মাজান আয়েশা (রা) কি বিবাহের পূর্বে বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছেছিলেন?

Image
সূচনা: রাসুল (ﷺ) এর বিরুদ্ধে নিয়ে উত্থাপিত মিথ্যাচারের অন্যতম একটি মিথ্যাচার হচ্ছে তিনি আম্মাজান আয়েশা (রা) কে তার বাল্যকালে বিবাহ করেছেন। অর্থাৎ রাসুল (ﷺ) বাল্যবিবাহ করেছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত পূর্ণাঙ্গ মিথ্যাচার লেখার প্রয়োজন বোধ করছিনা। মিথ্যাচারকারীদের উপর আল্লাহর লা’নত। এই বিষয় নিয়ে ওয়েস্টের ওরিয়েন্টালিষ্ট স্কলার, খ্রিষ্টান মিশনারীর মদদপুষ্ঠ বঙ্গীয় পার্ভাটদের নানান লেখালেখি অনলাইনে পাওয়া যায়। যাইহোক আম্মাজান আয়েশা (রা) আসলেই বয়ঃসন্ধিকালে সেই সময়ে পৌছেছিলেন কিনা এটা জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে হিস্টোরিক্যাল এভিডেন্স। হিস্টোরিক্যাল এভিডেন্স হিসেবে সাইন্টিফিক তথ্য খুব কম পাওয়া যায় কারণ বিজ্ঞান অতীত নিয়ে গবেষণা করেনা। দ্বিতীয়ত অতীতের প্রাপ্ত ধ্বংসাবশেষ ( এক্ষেত্রে কিছু কিশোর/কিশোরীর খুলি) নিয়ে গবেষণা চালালেও একজ্যাক্ট রেজাল্ট জানা যায়না। মোদ্দাকথা বিজ্ঞান হিস্টোরিক্যাল ট্রুথ নির্ণয় করতে পারেনা যেমন সাইন্স এটা প্রমাণ করতে পারবেনা যে স্যার আর্থার কোনান ডয়েল আসলেই শার্লক হোমস এর ক্রিয়েটর ছিলেন। সেক্ষেত্রে হিস্টোরিক্যাল ট্রুথ এর রিলায়াবল সোর্স একটিই হতে পারে তা হচ্ছে টেস্টিমনি বা সাক্ষ্য...

হাদিস সংকলনের ইতিহাস এবং ওরিয়েন্টালিষ্টদের বিভ্রান্তি

Image
হাদিস সংকলনের ইতিহাস নিয়ে যে মিথ্যেটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তা হচ্ছে হাদিস সংকলন করা হয়েছে মহানবী (স) এর মৃত্যুর ৩০০ বছর পর থেকে। এই মিথ্যে বিষয়টা প্রথম স্প্রেড করেন ওরিয়েন্টালিষ্ট ইগনোজ গোল্ডযিহার। ওরিয়েন্টালিষ্ট কারা যেটা এক কথায় জেনে নেয়া যাক।  ❝যেভাবে হোক ওয়েস্ট কে উপরে তুলতে হবে ও বাকি সবকিছুকে নিচে নামাতে হবে। পশ্চিম বাদে বাকি সবকিছুকে খারাপ, সমস্যাযুক্ত হিসেবে দেখাতে হবে।❞ (১)  যারা বা যেসব স্কলার এই কাজ করে, এই ধারণা দ্বারা প্রভাবিত ও এই টার্গেট বাস্তবায়নকারীদের দ্বারা ফান্ডেড তারা ওরিয়েন্টালিস্ট স্কলার। তবে সব ওরিয়েন্টালিষ্ট স্কলার যে খারাপ তা নয় কিছু স্কলার নিরপেক্ষ ভাবেও স্টাডি করে।  Google photo  ওরিয়েন্টালিষ্টদের এই ক্লেইমের প্রমাণ হিসেবে দাবি করে যে মহানবী ( ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় হাদিস লিখতে নিষেধ করেছিলেন। তবে এটাও সত্য প্রাথমিক সময়ে রাসুল তা নিষেধ করলেও হাফেজ বৃদ্ধি পাওয়ার পর তিনি লেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। যেমন আবু দাউদ এর বর্ণনা,  আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি যা কিছু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে শ্রবণ...

God Father Dilemma: A simple refutation

যখন সকল মানুষ কাফের হয়ে যাবে, কোনো মুসলিম বিদ্যমান থাকবেনা তখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। শয়তান যখন সবাইকে পথভ্রষ্ট করে ফেলে তাহলেই কেয়ামত হবে, এখন শয়তান যদি চায় সে আর মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে না তাহলে কেয়ামত কিভাবে ঘটবে? এক্ষেত্রে কেয়ামত ঘটানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা কি শয়তানের উপর নির্ভরশীল? কিংবা নবী রাসুল যে তাদের কওমদের হেদায়াতের জন্য প্রেরিত হতেন শয়তান পথভ্রষ্ট না করলে তো তারা হেদায়েত এর জন্য আসতেন না তবে কি নবী রাসুলগণের কাজটাও শয়তানের 'evil act' এর উপর নির্ভরশীল?  যদি তা না হয়, সবই আল্লাহর ইচ্ছেতে ঘটে থাকে তবে আল্লাহই কি আমাদের খারাপ বানান? শয়তানের গডফাদার কি তিনিই? ( নাউযুবিল্লাহ)  God Father Dilemma নিয়ে নতুন একটি ভিডিও: 

শিরক কেন সবচেয়ে বড় গুনাহ?

Image
Why Shirk is so evil?  ১. তাওহিদ  যদি এক কথায় ইসলাম কি তা বলতে হয় তবে বলতে হবে ইসলাম হলো 'তাওহিদ' একত্ববাদ। আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয় এটাই ইসলাম। আজ পর্যন্ত যত নবী রাসুল এসেছেন তাঁদের রিসালাতের মূল বাণী ছিল 'লা ইলাহাইল্লাল্লাহ' অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। রিসালাতের ক্ষেত্রে কালেমার দ্বিতীয় অংশ হয়তো নবীগণের ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে যেমন ঈসা (আ) এর রিসালাতের বাণী ছিলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ঈসা রুহুল্লাহ ' অর্থাৎ যুগে যুগে নবীদের কওম কালেমার শেষে উক্ত নবীর নাম সহ কালেমা পড়লেও মূল কালেমা কিন্তু একই তা হলো আল্লাহর একত্ববাদ। তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরীক নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনে স্পষ্টভাবে তাঁর সত্তার পরিচয় দিয়েছেন,  "বলুন ( হে নবি ), তিনি আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় , ২. তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন , ৩. তিনি কাউকে জন্ম দেননি ; কেউ তাঁকে জন্ম দেননি, ৪. আর তাঁর সমতুল্য কেউই নেই ।" (সুরা ইখলাস: ১-৪)  আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয় এটি কুরআন থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। মুমিনগণের জন্য কুরআনই যথেষ্ট এমনকি আমাদের ফিতরাত ও এটাই স্বীকার করে যে আল্লাহ কে...