নেসেসারি বিয়িং থেকে একজন স্রষ্টা
নেসেসারি বিয়িং এবং একজন স্রষ্টা
![]() |
| own |
আর্গুমেন্ট ফ্রম কন্টিনজেন্সি।
P1: Everything that exists has an explanation of its existence. (Either it exists by its own nature or some external reason)
P2: The universe exists.
P3: therefore, the universe has an explanation of It's existence.
P4: That explanation is either explained by its own nature or some external thing.
P5: Universe can fail to exist, therefore the explanation of the existence of the universe is an external explanation.
Conclusion: The explanation is a necessary Being. ( God exist)
P1: Everything that exists has an explanation of its existence. (Either it exists by its own nature or some external reason)
প্রেমিস ১ এনালাইসিস করলে দেখা যাবে যা কিছু অস্তিত্বে রয়েছে সবকিছুর একটি ব্যাখ্যা বা কারণ বিদ্যমান। আমরা পূর্বের Principle of sufficient reason (PSR) নিয়ে আলোচনায় এ বলে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং দেখিয়েছি causal explanation মূলত A priori knowledge. সুতরাং প্রেমিস ১ সত্য।
প্রেমিস ২ এর সাথে হার্ড স্কেপ্টিক ব্যতীত কেউ দ্বিমত পোষণ করবে না কারণ এটি self evident. প্রেমিস ৩ প্রেমিস ১ ও ২ থেকে প্রমাণিত।
P4: That explanation is either explained by its own nature or some external thing.
প্রেমিস ৪ আমাদের পূর্বের ভার্সনের PSR. এটি প্রমাণিত।
P5: Universe can fail to exist, therefore the explanation of the existence of the universe is an external explanation.
প্রেমিস ৫ অনুযায়ী মহাবিশ্ব কন্টিনজেন্ট ফ্যাক্ট। আমরা মোডাল লজিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় নেসেসারি এবং কন্টিনজেন্সি নিয়ে জেনেছিলাম। ◇p & ◇~p অর্থাৎ সম্ভাব্যভাবে এটি p হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। যেমন গোলাপি রঙের হাতি, এটি থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। দুটোই সম্ভব আবার দুটোর কোনোটিই সম্ভব নাও হতে পারে। আমাদের মহাবিশ্ব অস্তিত্বে নাও থাকতে পারে এটা সম্ভব, আবার মহাবিশ্বকে অন্যভাবে চিন্তা করাও সম্ভব। এটা সম্ভব যে কোনো পসিবল ওয়ার্ল্ডে মহাবিশ্বের আলোর গতি হবে সেকেন্ডে ১ কোটি কিলোমিটার। যার ফলে মহাবিশ্ব কন্টিনজেন্ট, এবং কন্টিনজেন্ট ফ্যাক্ট তার অস্তিত্বের জন্য চূড়ান্তভাবে নেসেসারি ফ্যাক্ট এর উপর নির্ভরশীল। সুতরাং মতো মহাবিশ্বের অস্তিত্বের ব্যাখ্যা বা কারণ হবে তার বাহ্যিক কোন কিছু।
Conclusion: The explanation is a necessary Being. ( God exist)
PSR থেকে আমরা জানি অস্তিত্বে রয়েছে এমন সবকিছুর অস্তিত্বের জন্য একটি ব্যাখ্যা রয়েছে হতে পারে ব্যাখ্যাটি তার নিজস্ব ন্যাচারের উপর ভিত্তি করে অথবা তার প্রকৃতির বাহ্যিক কোনো ব্যাখ্যার দ্বারা তাকে এক্সপ্লেইন করা যায়। আমরা নেসেসারি এবং কন্টিনজেন্সি ফ্যাক্ট নিয়ে জেনেছি, নেসেসারি ফ্যাক্ট গুলো অন্য কোনো ফ্যাক্ট এর উপর নির্ভরশীল এবং সেই ফ্যাক্ট গুলো কন্টিনজেন্ট হতে পারবেনা নাহলে ইনফিনিট রিগ্রেস এর ঝামেলায় পড়তে হবে এবং যা মেটাফিজিক্যাল নেসেসারি ট্রুথকে ভায়োলেট করে। সুতরাং কন্টিঞ্জেন্ট ফ্যাক্ট কোনো নেসেসারি গ্রাউন্ড এর উপর নির্ভরশীল। এবং সেই নেসেসারি গ্রাউন্ডটি হচ্ছেন একজন স্রষ্টা।
নেসেসারি বিয়িং এর প্রকৃতি:
আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, মহাবিশ্ব নিয়ে আমাদের টোটাল রিয়েলিটি যা কন্টিনজেন্ট এগুলো অস্তিত্বে নাও থাকতে পারতো, কিংবা অন্যভাবেও অস্তিত্বে থাকতে পারতো, এগুলো কেন অস্তিত্বে রয়েছে? কেননা এর ফাউন্ডেশন হচ্ছে একটি 'স্পেশাল রিয়েলিটি বা বিশেষ বাস্তবতা ' যা নেসেসারি। মোডাল লজিকে নেসেসারি এক্সিস্টেন্স হচ্ছে যা কখনো অনস্তিত্বে থাকতে পারবেনা অর্থাৎ এটি সকল পসিবল ওয়ার্ল্ডে এক্সিস্ট করবে এবং এটির পক্ষে 'অনস্তিত্ব' লজিক্যালি অসম্ভব। এবং নেসেসারি এক্সিস্টেন্স সকল পার্ফেকশন মূলক প্রোপার্টি সর্বোচ্চস্তরে তার মধ্যে ধারণ করবে যেহেতু তা নেসেসারি বিয়িং।
১/ অসীম,অনন্ত।
যেহেতু আমরা যৌক্তিক বিশ্লেষণে উপসংহারে পৌঁছেছি যে একজন নেসেসারি বিয়িং রয়েছেন সেক্ষেত্রে এর অর্থ দাঁড়ায় তিনি সর্বদা অস্তিত্বে ছিলেন। শুরুহীন কোনো কিছু অবশ্যই সবসময় অস্তিত্বে ছিলো। সর্বদা অস্তিত্ব থাকার অর্থ সেটা অনন্তকাল ধরে বিরাজমান ছিলো অর্থাৎ স্রষ্টার কোনো শুরু এবং শেষ নেই, সৃষ্টির পূর্বেও তিনি সবসময়ই বিদ্যমান ছিলেন তাই এবং তিনি শ্বাশ্বত, চিরন্তন সত্ত্বা। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে "আল্লা-হু লাইলাহা ইল্লা-হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ূম।
আল্লাহ ছাড়া কোনই ইলাহ (উপাস্য) নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও নিত্য বিরাজমান।" (১)
২/অতিপ্রাকৃত
অসৃষ্ট একজন স্রষ্টা কখনোই সৃষ্টির সমতুল্য হতে পারেন না। তিনি তার সৃষ্টি থেকে অর্থাৎ আমাদের জানাশোনা সকল ফিজিক্যাল রিয়েলিটির থেকে সম্পূর্ণ মূক্ত। স্রষ্টা সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ রুপে আলাদা, কেননা তিনি যদি সৃষ্টির মতো হন অথবা তার কোনো অংশ সৃষ্টির মতো হয় তবে তিনি অথবা তার সেই অংশ কন্টিনজেন্ট / পরাধীন হয়ে পরবে যা যৌক্তিকভাবে অসম্ভব। তাই তিনি হবেন তার সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি অবস্তুগত স্বাধীন একজন সত্তা।প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তায়্যিমিয়া বলেন " সৃষ্টি" শব্দটি স্রষ্টার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায়না, যেহেতু তিনি অসীম অসৃষ্ট সত্তা।" (২) পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
" তিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা, তিনি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং আন‘আমের জোড়া; এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন; কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (৩)
৩. All knowing ( সর্বজ্ঞ)
একজন স্রষ্টার অবশ্যই অসীম জ্ঞান থাকতে হবে যেহেতু তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন এবং পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন সূত্র দ্বারা জগৎ কে সুক্ষ্মভাবে সাজিয়েছেন। সবল নিউক্লিয় বল, দূর্বল নিউক্লিয় বল, মহাকর্ষ বল অন্যান্য যাবতীয় সকল সূত্র সম্পর্কে স্রষ্টা অবগত থাকবেন যেহেতু তিনি মহাবিশ্ব কে সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু মহাবিশ্বে এতো সুক্ষ্ম নিয়ম রয়েছে এই নিয়মসমুহ একজন নিয়ম প্রদানকারী কে ইঙ্গিত করে এবং একজন নিয়ম প্রদানকারী অবশ্যই জ্ঞানী হবেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, " اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ یَعۡلَمُ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ مَا یَکُوۡنُ مِنۡ نَّجۡوٰی ثَلٰثَۃٍ اِلَّا ہُوَ رَابِعُہُمۡ وَ لَا خَمۡسَۃٍ اِلَّا ہُوَ سَادِسُہُمۡ وَ لَاۤ اَدۡنٰی مِنۡ ذٰلِکَ وَ لَاۤ اَکۡثَرَ اِلَّا ہُوَ مَعَہُمۡ اَیۡنَ مَا کَانُوۡا ۚ ثُمَّ یُنَبِّئُہُمۡ بِمَا عَمِلُوۡا یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمٌ ﴿۷﴾
আলাম তারা আন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুমা-ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়ামা-ফিল আরদি মাইয়াকূনুমিন নাজওয়া-ছালা-ছাতিন ইল্লা-হুওয়া রা-বি‘উহুম ওয়ালা-খামছাতিন ইল্লাহুওয়া ছা-দিছুহুম ওয়ালাআদনা-মিন যা-লিকা ওয়ালাআকছারা ইল্লা-হুওয়া মা‘আহুম আইনা মা-কা-নূ ছু ম্মা ইউনাব্বিউহুম বিমা-‘আমিলূইয়াওমাল কিয়া-মাতি ইন্নাল্লা-হা বিকুল্লি শাইয়িন ‘আলীম।
তুমি কি অনুধাবন করনা, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয়না যাতে চতুর্থ হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেননা; এবং পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে এমন কোন গোপন পরামর্শ হয়না যাতে ষষ্ঠ হিসাবে তিনি উপস্থিত থাকেননা; তারা এতদপেক্ষা কম হোক বা বেশি হোক, তারা যেখানেই থাকুকনা কেন তিনি তাদের সাথে আছেন। তারা যা করে, তিনি তাদেরকে কিয়ামাত দিবসে তা জানিয়ে দিবেন। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সম্যক অবগত।" (৪)
৪. All Powerful ( সর্বশক্তিমান)
সৃষ্টিকর্তা ( নেসেসারি বিয়িং) অবশ্যই সর্বশক্তিমান যেহেতু তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। এবং মহাবিশ্ব বিপুল পরিমাণে এনার্জির সম্ভার। স্রষ্টার ব্যবহারিক এবং সম্ভাব্য শক্তি রয়েছে। আমাদের পর্যবেক্ষণরত মহাবিশ্বে পরমাণুর সংখ্যা প্রায় ১০^৮০! এবং আপনি যদি একটি পরমাণু নিয়ে সেটাকে বিভাজিত করেন তাহলে বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপত্তি হবে। সুতরাং অবশ্যই মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার শক্তি থাকতে হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, " আল্লাহ যা ইচ্ছে তাই করেন, আল্লাহ সর্ব বিষয় এ সর্বশক্তিমান। " (৫)
৫. Will Power ( ইচ্ছে শক্তি)
সৃষ্টিকর্তার অবশ্যই ইচ্ছে শক্তি থাকতে হবে। এর বেশ কিছু কারণ রয়েছে তন্মধ্যে কিছু বিষয় হাইলাইট করা যাক। প্রথমত মহাবিশ্ব অস্তিত্বে ছিলো না বরং একটা নির্দিষ্ট সময় পূর্বে স্রষ্টা মহাবিশ্ব কে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে এসেছেন। অর্থাৎ অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে নিয়ে আসার মধ্যে একটা প্রবণতা বা ইচ্ছে কাজ করে সুতরাং স্রষ্টার অবশ্যই will power থাকবে। দ্বিতীয়ত মহাবিশ্বের ভেতর এ যা রয়েছে তন্মধ্যে এখন পর্যন্ত মানুষ একমাত্র সচেতন কনশাসনেস যুক্ত প্রাণী যারা স্বাধীন ভাবে চিন্তা করতে পারে। আমরা বিভিন্ন কিছু চিন্তা করি, আবিষ্কার করি যেমন এই বইটি লেখার সময় আমি প্রচন্ড রকম ক্রিটিকাল চিন্তা করছি এসব ই আমার কনশাসনেস থাকার ফলে সম্ভব হচ্ছে, আমরা বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা করি, প্রশ্ন করি সবমিলিয়ে অনেক কিছু। এরকম কনশাস প্রাণীসহ মহাবিশ্ব তৈরি করতে হলে যিনি তৈরি করবেন অবশ্যই তাকে আগে কনশাস হতে হবে সৃষ্টি করার ইচ্ছে থাকতে হবে তবেইনা তিনি আমাদের সৃষ্টি করবেন
এছাড়াও কোনো সত্তার কাছে যা নেই সে তা অন্যত্র দিতে পারবেনা যদি স্রষ্টার ইচ্ছে শক্তি না থাকে তবে তিনি কখনোই আমাদের সৃষ্টি করতে পারতেন না স্রষ্টার সৃষ্টির এই কার্যক্রম (act) এর সাথে বহুমাত্রিক গুণাবলি সংযোজিত তন্মধ্যে এই ইচ্ছে শক্তি একটি। স্রষ্টা মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি করেছেন? এগজ্যাক্টলী আমরা জানিনা কেননা আমরা তা পর্যবেক্ষণ করিনি তবে আমাদের একটি ব্যক্তিগত ব্যাখ্যা রয়েছে স্রষ্টা ইচ্ছে করেছেন এরপর তিনি সকল উপাদান নিয়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। অধুনা বৈজ্ঞানিক সৃষ্টিতত্ত্ব এ বিষয়টিকে ভুল প্রমাণ করে না মোটেও সুতরাং সৃষ্টির ক্ষেত্রে সৃষ্টির জন্য ইচ্ছে বা তাগিদ থাকা প্রয়োজনীয় তা স্রষ্টার রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছে শক্তি নিয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,
" তারা অনন্তকাল সেখানে থাকবে, যে পর্যন্ত আসমান ও যমীন স্থায়ী থাকে। তবে যদি আল্লাহর ইচ্ছা হয় তাহলে ভিন্ন কথা; নিশ্চয়ই তোমার রাব্ব যা কিছু চান তা তিনি পূর্ণরূপে সমাধা করতে পারেন।" (৬)
নেসেসারি বিয়িং হওয়ায় প্রতিটি গুণ তার মধ্যে পার্ফেক্টলি থাকবে এবং সেগুলো হবে গুণে অসীম অর্থাৎ ' এর থেকে উর্ধ্বে বা বেশি আর সম্ভব নয়'। এবং তিনি হবেন একজন স্রষ্টা।
.jpeg)
Comments
Post a Comment