দুজন মানুষের থেকে সম্পূর্ণ মানবজাতির উৎপত্তি সম্ভব
মানুষের উৎপত্তি কি একক কোনো দম্পতি থেকে হয়েছে? হওয়া সম্ভব? বিজ্ঞান কি একক দম্পতি থেকে মানুষের উৎপত্তি কে বাতিল প্রমাণ করেছে? বায়োলজি এবং পপুলেশন জেনেটিক্সের আলোকে আজ আমরা তা জানার চেষ্টা করব।
![]() |
| Google photo |
1.পপুলেশন জেনেটিক্স এবং একক দম্পতি
১৯৩০ এর দশকে ডারউইনের বিবর্তনতত্ত্ব এবং গ্রেগর জোহান মেন্ডেলের জেনেটিক্স মিলে তৈরি হয় মডার্ণ সিন্থেসিস যা নিও ডারউইনিজম নামেও পরিচিত। সময়ের সাথে কিভাবে প্রাণীর ফর্ম বিবর্তিত হয় তা নিয়ে কাজের পরিবর্তে নব্য ডারউইনবাদীরা কাজ শুরু করে কিভাবে পপুলেশনে জিনগত বৈচিত্র্য ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে। পপুলেশন জেনেটিক্স মূলত পপুলেশনে এসকল জিনগত বৈচিত্র্য, এলিল ফ্রিকোয়েন্সীর পরিবর্তন ইত্যাদি নিয়ে গানিতিকভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে থাকে। যেহেতু পপুলেশন জেনেটিক্সের সাথে ডারউইনিজমের সংযোগ আছে সেহেতু পপুলেশন জেনেটিক্স স্টকাস্টিক প্রসেসের মাধ্যমে প্রাকৃতিক নির্বাচন ( র্যান্ডম সিলেকশন) কে অনুমান করে নেয় যে এর মাধ্যমে সকল বিবর্তনীয় পরিবর্তন কে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এছাড়াও এই প্রসেস এর মধ্যে রয়েছে মিউটেশন ( DNA সিকুয়েন্স এ পরিবর্তন), রিকম্বিনেশন ( একাধিক ক্রমোজমের মধ্যে জেনেটিক তথ্যের অদল বদল) , জেনেটিক ড্রিফট ( রিপ্রোডাকশনের ব্যর্থতার জন্য র্যান্ডমভাবে জেনেটিক তথ্যের হ্রাস) ইত্যাদি। পপুলেশন জেনেটিক্সের ইকুয়েশনগুলোর জন্য অনেকগুলি অনুমান এর উপর কাজ করতে হয়, যেমন:- কন্সট্যান্ট মিউটেশন রেট,কোনো মাইগ্রেশন ব্যতীত কন্সস্ট্যান্ট পপুলেশন সাইজ, সিকুয়েন্স সদৃশতার উপর ভিত্তি করে common ancestry ইত্যাদি। এসকল অনুমান নিয়েও প্রশ্ন তোলা যায়।
১৯৯০ এর দশকে বায়োলজিস্ট ফ্রান্সিস্কো আয়ালা সর্বপ্রথম Single couple human origin ( আদম & ইভ) এর ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জ করেন, HLA (Human Leukocyte Antigen) জিনের সিকুয়েন্স ইনফরমেশন ব্যবহার করে।আয়ালা শিম্পাঞ্জি এবং মানুষের HLA-DRB1 জিনের exon 2 থেকে ডিএনএ সিকুয়েন্স বের করেন এবং পপুলেশন জেনেটিক্সের এলগরিদম ব্যবহার করে উক্ত জিনের ফাইলোজেনেটিক ট্রি বের করেন। আয়ালার হিসেব মতে, ৪-৬ মিলিয়ন বছর আগে যখন মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি আলাদা হয়েছিলো ( এই হিসেব ও পরিবর্তিত হয়) সেই সময়ে HLA-DRB1 এর ৩২ টি আলাদা এলিলের ভার্সন ছিলো। এবং মানুষের জনসংখ্যা কখনোই ৪০০০ এর নিচে ছিলো না। (১) আয়ালার মডেল অনুযায়ী যেহেতু উক্ত জিনের পূর্বপুরুষগত বিভাজন / বৈচিত্র্যতা এতো বেশি যে মানবজাতি দুইজন মানুষ থেকে আসতে পারে না। যাইহোক,আয়ালার মডেলে অসংখ্য পূর্বানুমান বিদ্যমান ছিলো যার একটি না মিললেও পুরো মডেলটি বাতিল হতে বাধ্য। অন্যদিকে পরবর্তী এক গবেষণায় Bergström et al একই HLA-DRB1 জিন নিয়ে গবেষণা করেন তবে Intron 2 থেকে, জিনের এই অংশটি প্রোটিন ট্রান্সলেট করেনা। যেহেতু আয়ালার পরীক্ষিত exon 2 অংশে মিউটেশনের হার অনেক বেশি ছিলো সেহেতু Bergström et al Intron 2 নিয়ে পরীক্ষণ চালান. তিনি দেখতে পান Pan Homo split এ HLA-DRB1 এর ৭ টি ভার্সন ছিলো! এখানে দেখা যাচ্ছে মাত্র ২ টি অনুমান নিয়ে সতর্ক হওয়ার ফলে ফলাফলে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। ( ৩২ এলিল বনাম ৭)। (২) অন্যদিকে ২০০৭ এ করা Jenny von Salomé et al এর গবেষণায় দেখা যায়, যে এলিল লিনিয়েজ কমে গিয়ে এনার মাত্র চারটি পাওয়া গেল এবং সেগুলোর উদ্ভব হয়েছে রিসেন্টলি ১ মিলিয়ন বছর আগে। (৩) একেক ব্যক্তি যেহেতু HLA-DRB1 জিন এর ২ টি করে এলিল বহন করতে পারে সেক্ষেত্রে ২ জন মানুষ জিনগত বৈচিত্রের জন্য প্রয়োজনীয় হ্যাপ্লয়েড বহন করতেই পারে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে HLA ' highly polymorphic' হলেও তা মানবজাতির দুজন পূর্বপুরুষের ধারণাকে বাতিল করতে পারেনা।
এবার কিছু সংজ্ঞা জেনে নিয়ে আমরা অংক শুরু করব:-
1.2 পপুলেশন বটলনেক
পপুলেশন বটলনেক বলতে এককথায় বোঝায় মহাবিপর্যয়। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, ধ্বংসাত্মক ঝড় কিংবা ব্যাপক সহিংসতা ইত্যাদির ফলে কোনো পপুলেশনের জিনপুলের তারতম্য দেখা দিতে পারে এমনকি প্রায় সম্পূর্ণ পপুলেশন বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। পপুলেশন বটলনেক এর জন্য সৃষ্ট জেনেটিক ড্রিফট এলিল ফ্রিকোয়েন্সির ক্ষতিও করতে পারে।
1.2 জেনেটিক ড্রিফট
কোনো পপুলেশনে কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই একেবারে র্যান্ডমলি হঠাৎ করে পপুলেশনের মধ্যে এলিল ফ্রিকোয়েন্সির কমে যাওয়া বা নিঃশেষ হয়ে যাওয়াকে জেনেটিক ড্রিফট বলা হয়। জেনেটিক ড্রিফ্টের কারণে জিনের ভিন্নতা সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে জেনেটিক বৈচিত্র্য হ্রাস পেতে পারে ।
2. অংক ( সূত্র)
1. Population Growth
Nt=N°. r^t
ব্যাখ্যা: Nt = নির্দিষ্ট সময়ে কোনো গোষ্ঠীর আয়তন। ( পপুলেশন সাইজ)
N° = প্রাথমিক পপুলেশন সাইজ
r= প্রতি জেনারেশনে বৃদ্ধির পরিমাণ।
2. Heterozygosity:
H=2pq
ব্যাখ্যা: H= কোনো ব্যক্তির হেটেরোজাইগোসিটির অনুপাত
p= একটি এলিলের ফ্রিকোয়েন্সী
q= (1-p) অন্য একটি এলিলের ফ্রিকোয়েন্সী।
3. এলিলের উপর মিউটেশনের প্রভাব:
A(new) = μ. Nt. L
ব্যাখ্যা: A(new) = মিউটেশনের সাহায্যে নতুন এলিলের পরিচতি।
μ= প্রতি জেনারেশনে প্রতি একক মানুষের উপর মিউটেশনের রেট।
Nt= কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জেনারেশনের পপুলেশন সাইজ
L= Loci র সংখ্যা, যা আনুপাতিকহারে বৃদ্ধি পায়।
• Lt =c⋅Nt, যেখানে C হলো ধ্রুবক।
4. Total Genetic Diversity
Dt =H⋅(2⋅Nt)+Anew
Anew কে প্রতিস্থাপন করে পাবো:
Dt =H⋅(2⋅Nt)+μ⋅(Nt)2⋅c
যেখানে, Dt = নির্দিষ্ট সময়ে কোন জেনারেশনের সম্পুর্ণ জিনগত বৈচিত্র্য।
2.1 প্রথম জেনারেশনে হেটেরোজাইগোসিটি:
দুটো ভিন্ন এলিলকে বলা হয় হেটেরোজাইগাস এলিল। এবং ডিএনএ 'র অল্টারনেটিভ ভার্সনকে বলা হয় এলিল। আমরা জানি এলিল দু প্রকার। হোমোজাইগাস (aa) হেটেরোজাইগাস(Ab) বিস্তারিত মাইক্রো বিবর্তন এর মেকানিজম (এলিল পরিচিতি)
ধরি, জীবনের শুরুতে একক দম্পতি ছিলো যাদের মধ্যে যথেষ্ট জিনগত বৈচিত্র্য পূর্ববিদ্যমান ছিলো হেটেরোজাইগাস (ভিন্ন) এলিলের কারণে। যখন তারা রিপ্রোডাকশন শুরু করলো তখন প্রতি জেনারেশনে offspring আসার মাধ্যমে জেনেটিক শাফলিং এবং রিকম্বিনেশনের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি হলো। ধরে নিচ্ছি, একজন দম্পতি যাদের স্পেসিফিক লোকাসের প্রতিটি জিনে দুটি ভিন্ন ( হেটেরোজাইগাস) এলিল রয়েছে।
১. প্রথম ব্যক্তির এলিল: A এবং a
২. দ্বিতীয় ব্যক্তির এলিল: B এবং b
তাহলে দেখা যাচ্ছে এখানে মোট এলিল চারটি। A,a,B,b.
যখন তারা রিপ্রোডিউস করবে তখন তাদের থেকে একটা করে এলিল পরবর্তী প্রজন্মের offspring এ পাস হবে।
মাতা থেকে ১ টি হয়, A নাহয় a
পিতা থেকে ১ টি হয়, B নাহয় b. সুতরাং সম্ভাব্য জেনোটাইপ হলো:
AB
Ab
aB
ab
আমরা দেখতে পাচ্ছি কেবল একটি Locus এ, প্রথম জেনারেশনে ৪ টি জিনোটাইপ পাওয়া সম্ভব। হেটেরোজাইগাসিটির মানে হচ্ছে দুটো ভিন্ন ধরনের এলিল। AB, Ab, aB, ab.
প্রথম জেনারেশনে হেটেরোজাইগোসিটির পরিমাণ:
![]() |
যেখানে, pi হলো উক্ত জেনারেশনের প্রতিটি এলিলের ফ্রিকোয়েন্সী।
PA=pa =PB =Pb=0.25
H=1−(PA^2+Pa^2+PB^2+Pb^2)
H=1−(0.25^2+0.25^2+0.25^2+0.25^2)
H=1−(0.0625+0.0625+0.0625+0.0625)
H=1−0.25=0.75
Heterozygosity (𝐻) = 75%.
অর্থাৎ, একক হেটেরোজাইগাস দম্পতির এলিলের কম্বিনেশনের ফলে প্রথম জেনারেশনে ৭৫% জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি হয়।
এখানে আমরা যদি, একের অধিক loci চিন্তা করি তবে জেনোটাইপ জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
2.2 ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন এবং ফাউন্ডার ইফেক্ট
আমরা কি জানি? কিছুই না। আমরা জানি যে হমোজাইগাস এলিল কোনো জনগোষ্ঠীতে বেশি দেখা দিলে রিসেসিভ এলিলের পরিমাণ বাড়বে এবং বৈচিত্র্য কমার ফলে রোগের পরিমাণ ও বেড়ে যাবে ফলে উক্ত পপুলেশন শেষ হয়ে যাবে। ছোট পপুলেশনে ইনব্রিডিং বেশি হওয়ায় এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু আমরা দেখেছি যে দুজন মানুষ যদি হেটেরোজাইগাস হয় তবে এই সমস্যা থাকেনা।
আবার,
পপুলেশন বটলনেক যেমন এক ধরনের জেনেটিক ড্রিফট ঠিক তেমনই আরেক ধরনের জেনেটিক ড্রিফট আছে যাকে বলে ফাউন্ডার ইফেক্ট। যখন কোনো পপুলেশন থেকে একদল লোক,যাদের এলিল ফ্রিকোয়েন্সি ওই টোটাল জনসংখ্যার এলিল ফ্রিকোয়েন্সিকে রিপ্রেজেন্ট করেনা, তারা যখন মাইগ্রেট করে অন্য স্থানে চলে যায় ও সম্পূর্ণ নতুন জনসংখ্যার উৎপত্তি ঘটায়, তখন নতুন জনসংখ্যার এলিল ফ্রিকোয়েন্সি আগেরটা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে,আর উভয় জনসংখ্যারই জেনেটিক ভ্যারিয়েশন বা জিন-বৈচিত্র কমে যায়, একেই বলে ফাউন্ডার ইফেক্ট।
এখানে ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন অথবা ফাউন্ডার ইফেক্ট এর ফলে ধীরে ধীরে জিনগত বৈচিত্র্য হ্রাস পেতে পারে। যেমন:
(H°) = 0.75. (Initial heterozygosity)
Population size (𝑁) = 10 individuals.
Time (𝑡)= 5 generations
Ht= (1-1/2×10)^5
=0.75(1−0.05)^5
= 0.75×(0.95)^5
= 0.75×0.774
=0.5805
=58%
আবার ন্যাচারাল সিলেকশন, মিউটেশনও আছে। এক্ষেত্রে, উপরের হিসেবের মতো পপুলেশন ধীরগতির ( ৫ প্রজন্মে মাত্র ১০ জন) ধরে নিলে এই সমস্যাটি দেখা দেয়।
এর সমাধান কি? সমাধান আছে, তা হলো র্যাপিড গ্রোথ।
3. Rapid Growth
র্যাপিড গ্রোথ হিসেব করলে ব্যাপার টা দাঁড়াবে এমন-
![]() |
| Retention of Genetic Diversity |
এখানে পপুলেশন সাইজ সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পায় এবং heterozygousity স্ট্যাবল থাকে। বাকি হিসাব পড়ে হবে। আলাপ করি ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন নিয়ে। সহজ কথায়, ইনব্রিডিং এর ফলে হমোজাইগাস রিসেসিভ এলিলের বৃদ্ধির ফলে অর্গানিজমের ফিটনেস হ্রাস পায়। উপরের গ্রাফে আমরা দেখতে পাচ্ছি র্যান্ডম ম্যাটিং এর ফলে হেটেরোজাইগাস এলিল এর অনুপাত সমান থাকে এক্ষেত্রে হমোজাইগাস এলিলের ফ্রিকোয়েন্সী বৃদ্ধি পাচ্ছেনা এবং যেহেতু জেনেটিক ড্রিফট এর জন্য খুব বেশি সুযোগ থাকছেনা, র্যাপিড গ্রোথ উক্ত জনসংখ্যাকে ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন থেকে বাচিয়ে রাখছে। এটার ইকুয়েশন আপাতত দেখাচ্ছিনা। মনে রাখা দরকার, যখন জনসংখ্যা সূচকীয় হারে বৃদ্ধি পায় তখন ইনব্রিডিং কো ইফিশিয়েন্ট অনেক ছোট হয়ে যায়। উল্লেখ্য যে, ব্যালেন্সিং সিলেকশন এবং মিউটেশন কে আমলে নিলে হিসাব কিছুটা কমলে বা বাড়লেও জিনগত বৈচিত্রের উপর খুব বেশি প্রভাব পড়বেনা।
এবার, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে জিনগত বৈচিত্রের অংক করে ফেলব:-
যদি প্রতিটি দম্পতির 𝑛 সংখ্যক সন্তান থাকে,, সূচকীয় হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে:
𝑁𝑡 =𝑁°⋅𝑛^𝑡
N°= দুজন প্রাথমিক মানুষ
n= সন্তান সংখ্যা
t= বংশ সংখ্যা
১ম জেনারেশনে 2×4^1 =8
২য় জেনারেশনে 2×4^2= 32
৩য় জেনারেশনে 2×4^3= 128... এভাবে চলতে থাকবে। এই হিসেব এ ১০ তম জেনারেশনে পপুলেশন হবে ১০২৪.
H°=0.75 ( প্রাথমিক হেটেরোজাইগোসিটি)
Nt= 1024 (t জেনারেশনে পপুলেশন সাইজ)
t= ১০ প্রজন্ম
Ht= 0.75(1-1/2×1024)^10
Ht= 0.75×(0.9995117)^10
Ht= 0.75×0.995
Ht ≈0.74625
= 74%
অর্থাৎ র্যাপিড গ্রোথের সাথে জেনেটিক ড্রিফট ঘটলেও এলিল রিডাকশন খুব কমই হয় এবং ১০ জেনারেশনের পরেও হেটেরোজাইগোসিটি ইনিশিয়াল হেটেরোজাইগাস এর কাছাকাছি থাকে। আমরা এখানে মিউটেশনের অংক করব না। কারণ বর্তমান সময়ে মানুষের জিনোমে মিউটেশনের রেট এবং ডিএনএ বেস পেয়ারের কথা চিন্তা করলে অতি অল্প সময়ে লক্ষাধিক এলিলের ভ্যারিয়েশন সম্ভব। তবে এটা ছাড়াও অতিসাধারণভাবেই আমরা দেখতে পাই, একক দম্পতি থেকে কি পরিমাণ জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি হতে পারে।
আচ্ছা এতোসব আলোচনা হলো, এখন একটু Mashatoshi Nei এর সাথে পরিচয় হওয়া যাক। আমরা এতো অংক নিজে নিজে করিনি। Mashatoshi Nei একজন আমেরিকান বায়োলজিস্ট, তার সাইটেশন সাড়ে চার লাখের বেশি। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান, পপুলেশন জেনেটিক্স এসকল শাখায় পৃথিবীর অন্যতম একজন বায়োলজিস্ট তিনি। ২ জন কো অথরসহ তিনজন মিলে ১৯৭৫ সালে বিখ্যাত 'Evolution' জার্নালে The Bottleneck Effect and Genetic Variability in Populations'' নামে একটি থিওরিটিক্যাল গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। (৪) সেখানে তারা দেখান যে, এলিল কতটুকু হ্রাস হবে তা বটলনক ইভেন্ট এর সাইজ নয় বরং পপুলেশন কত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে তার উপর নির্ভর করে। এবং তারা দেখান যে একক দম্পতির পপুলেশনে ৭৫% হেটেরোজাইগোসিটি বজায় থাকে। যা আমরা আমাদের মতো হিসেব করে দেখিয়েছি।
![]() |
| Rapid population Growth and genetic diversity |
এছাড়াও এমন প্রমাণও আছে যে একটি নতুন পপুলেশনে HLA এর জেনেটিক ডাইভার্সিটি অতিদ্রুতগতিতে হয়েছে যেখানে সাধারণত এটি হয়না। (৫)
4. Effective Population Size (Ne)
কার্যকরী জনসংখ্যা হলো এমন কিছু ব্যক্তিদের সংখ্যা যারা পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানাদি জন্মদান এবং জিনগত তথ্য আদান প্রদানে ভূমিকা রাখে।সেক্স রেশিও, জেনেটিক ড্রিফট ইত্যাদির কারণে এটি মূলত একটি ' আসল পপুলেশন' থেকে আলাদা জিনগত বৈচিত্র্য নিয়ে জানার জন্য Ne গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে গত কয়েক লক্ষ বছর ধরে মানুষের আদি পূর্বপুরুষদের পপুলেশন সংখ্যা ১০,০০০ এর অধিক ছিলো। যা আমরা আগেই জেনেছি। ক্রিটিকদের মতে, কেবলমাত্র ২ জন মানুষ থেকে মানবজাতির উৎপত্তি হলে অতিরিক্ত ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন এবং জেনেটিক ড্রিফট ইত্যাদির ফলে ডাইভার্সিটি এতো হ্রাস পাওয়ার কথা যে মানুষের টিকে থাকাই অসম্ভব হতো। কিন্তু আমরা উপরে দেখেছি যে Rapid population growth এসব সমস্যা কে দূর করে দেয়। আরও উল্লেখ্য যে, Ne হচ্ছে ক্রমবর্ধমান সময়ের গড় পপুলেশন সাইজ। এটি কখনোই তাৎক্ষণিক একক সময়ের পপুলেশন সাইজ নির্ধারণ করতে পারেনা যার ফলে বটলনেক ইফেক্টের মাধ্যমে ২ জন মানুষের থেকে আমাদের উৎপত্তি হলেও এতো শার্প একটি বটলনেক কে Ne কখনোই ডিটেক্ট করতে পারবেনা। Ne একটি কনস্ট্যান্ট সাইজ অনুমান করে নেয়, যা অতীতে ঘটা র্যাপিড বটলনেক এর জন্য যথেষ্ট নয়।
উপসংহার:
আমরা দেখতে পাচ্ছি, পৃথিবীর জিনগত বৈচিত্র্য কখনোই প্রাথমিক একক দম্পতিকে বাতিল করে দেয়না। এবং তাত্ত্বিকভাবে এবং অভিজ্ঞতালব্ধ গবেষণা থেকে আমরা জানতে পারি, প্রাথমিক একক দম্পতি জেনেটিক ড্রিফট, ইনব্রিডিং ডিপ্রেশন ইত্যাদি সকল সমস্যা এড়িয়ে দ্রুতগতিতে বংশবৃদ্ধির মাশ্যমে পৃথিবীতে জিনগত বৈচিত্র্য তৈরি করতে সক্ষম। সুতরাং ❝ বিজ্ঞান মানুষ এক দম্পতি থেকে এসেছে এটি বাতিল করেছে ❞ এটি প্রমাণ করাই বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। নাস্তিক এবং বিজ্ঞানবাদীরা বিজ্ঞানের অপব্যবহার এর মাধ্যমে এমনটি চেষ্টা করে থাকে।
এই আর্টিকেলে পপুলেশন জেনেটিক্সের অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। আমার বইয়ের মাইক্রো ইভোলিউশন এর মেকানিজম অধ্যায়ে এ নিয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে। ফ্রি পিডিএফ ম্যাক্রো ইভোলিউশনের ব্যবচ্ছেদ A paraboliv History of Evolution
রেফারেন্স:
[1] Francisco J. Ayala, “The Myth of Eve: Molecular Biology and Human Origins,” Science 270, no. 5292 (1995): 1930–36.
[2]Tomas Bergström et al., “Recent Origin of HLA-DRB1 Alleles and Implications for Human Evolution,” Nature Genetics 18, no. 3 (1998): 237–42.
[3] Jenny von Salomé et al., “Full-Length Sequence Analysis of the HLA-DRB1 Locus Suggests a Recent Origin of Alleles,” Immunogenetics 59, no. 4 (2007)
[4]Nei, M., Maruyama, T., & Chakraborty, R. (1975). The bottleneck effect and genetic variability in populations. Evolution, 1-10.
[5] V. Vincek, et al., “How Large Was the Founding Population of Darwin’s
Finches?” Proc. R. Soc. London Ser. B 264 (1997): 111–118.





Great!!
ReplyDeleteThank you
Deleteপুরো পোস্ট পড়ে এবং যতোটুকু সম্ভব বুঝে এরপর মন্তব্য করছি; আপনার গাণিতিক সূত্র প্রয়োগ প্রেক্ষাপটে যে কতো লজিক্যাল আর্গুমেন্টাল ফ্যাসালিতে রেফারেন্স ফ্রেম ধরেছেন তা আপনি নিজেই তো ধরতে পারছেন না শুধুমাত্র একটা "স্ট্যাটিকস মডেল" স্বীকার্য ধরে।
ReplyDeleteএখন আপনাকে বিব্রত করতে চাইনা বরং একদম সহজ ও সরলভাবে জানতে চাইবো দুইজন (এক জোড়া) দম্পতি হতে পরবর্তী নেক্সট ৩ জেনারেশন মাত্র উৎপত্তির সম্ভাবনার এটলিস্ট আপনার যা যা যেমন যেমন পরিবেশ ও প্রেক্ষাপট প্রয়োজন সেটা বিবেচনা করে সম্ভাবনার সমীকরণ দিন।
১ম পরামর্শ: বানান ঠিক করুন।
Delete২য়: পপুলেশন জেনেটিক্সের ম্যাথ গুলো স্বীকার্য ধরেই এসেছে বাতাস থেকে আসেনি। Nei এর ১৯৭৫ এর গবেষণাপত্রেই এই ইকুয়েশন দেয়া আছে। সমালোচনার আগে পড়া প্রয়োজন।
মাত্র ৩ টি জেনারেশনের অংক আপনি নিজেই করে ফেলুন সূত্র দেয়াই আছে।
বহু হিসাব নিকাশ দিয়ে দাবি উত্থাপন করলেন যে সুর্য পশ্চিম দিকে ওঠে। কিন্তু পৃথিবীর কোন শিক্ষিত আধুনিক সভ্য মানুষ আপনার দাবি মানবে না। মানা সম্ভবও না।
ReplyDeleteকাজিন ম্যারেজের মাধ্যমে প্রথম প্রজন্মেই যেরকম অসুখবিসুখ দেখা দেয়,,, আপন ভাই বোনের মাঝে প্রজনন হলে কি হবে সেটা তো ভাবতেও ভয় লাগে।
মানে আপনারা কি আপন ভাই বোনের মাঝে ইন্টারকোর্সকেও অস্বাভাবিক মনে হয় না,,??
সো কল্ড হেলিওহেন্ট্রিজম আর single couple human origin এক জিনিস না। কাজিন ম্যারেজ নিয়ে আসার আগে হেটেরোজাইগোসিটি নিয়ে পড়াশোনার আহবান থাকলো।
Deleteনাস্তিক দেখি অনেক শিক্ষিত আধুনিক 😂
Deleteদু'জন মানুষ থেকে পৃথিবীর সকল মানুষ এসেছে- এটি আদম-ইভের মিথ থেকে নেয়া। মিথ থেকে দেখা যায়, আদমের পাজরের হাড় থেকে ইভ এসেছে, মানে তারা জিনগতভাবে একজন আরেকজনের ক্লোন, ভিন্ন লিঙ্গের কিভাবে হল জানি না। আদমের উচ্চতা ছিল ৯০ ফুট ও বেচারা ৯৬০ বছর বেচেছিলেন।
ReplyDeleteআদম বা সেসময়ের কারও দেহ বা দেহাংশের কোনো ফসিল পাওয়া যায় নি, একটা আঙ্গুলের ফসিল পেলেই এ থেকে আমরা বুঝতে পারতাম বিশাল দেহের মানুষ ছিল।
বিবর্তনের দিক থেকে চিন্তা করলে, এমন কোনো হাইপোথেসিসের প্রয়োজন নেই যেখানে ধরে নিতে হবে সকল মানুষ একটা দম্পত্তি থেকে আসে। কোনো গ্রহণযোগ্য রিসার্চ পেপার এরকম কিছু বলেনা।
একটা মিথকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে গরুর রচনা লেখার প্রয়োজন নেই, কমন সেন্স দরকার। সাড়ে ২১ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি পৃথিবীতে এসেছে বিবর্তনের মাধ্যমে। মানুষ সব প্রজাতির মত শুধুই একটি প্রজাতি। এছাড়া মানুষের সাথে নিয়ানডার্থাল সহ আরো কিছু কাছের প্রজাতির মিশ্রণ ঘটেছে। এগুলো এক দম্পত্তি মিথ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
জিনগত ভাবে কিভাবে বৈচিত্র্য আসলো সেটা বোঝার জন্য প্রথমত ইন্টারের বায়োলজি বই এবং পরবর্তীতে পপুলেশন জেনেটিক্স এবং তারপর আর্টিকেল টা পড়ুন।
Deleteঅসংখ্য রিসার্চ পেপার আছে যা দেখায় Single couple human origin সম্ভব। আপনার কিঞ্চিৎ জ্ঞান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে উপদেশ হলো 'Why should mitochondria define species' পেপার টা পড়ে দেখুন যদি ইংরেজি জানেন আরকি।
২১ লক্ষ প্রজাতি বিবর্তন এর মাধ্যমে এসেছে, সো কল্ড ট্যাক্সনমিক ইভোলিউশন কে আগে প্রুফ করুন এরপর কথা হবে।
সর্বশেষ Do more study, educatr yourself before you argue about anything.
আদম-ইভপর ঘটনা মিথ আর "সাড়ে ২১ লক্ষেরও বেশি প্রজাতি পৃথিবীতে এসেছে বিবর্তনের মাধ্যমে" - এইটা হইলো ট্রুথ!
Deleteফসিল না পাওয়া মানেই কোনো প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল না—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।
Delete