Principle of sufficient reason

Principle of sufficient reason (PSR) 

গত পর্বে আমরা মোডাল লজিক নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। 

আজ আমরা কার্যকারণ নিয়ে জানবো।

এরিস্টটল তার বই পোস্টেরিয়র অ্যানালিটিক্স -এ , সঠিক জ্ঞান লাভের উপর নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রেখেছেন: "আমরা মনে করি আমরা তখনই কোন জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান পাই যখন আমরা তার কারণটি উপলব্ধি করি " (১) সেই সঠিক জ্ঞান হল কারণের জ্ঞান,৷পদার্থবিদ্যায় বারবার বলা হয়েছে : আমরা মনে করি যে কোনো জিনিস সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান নেই যতক্ষণ না আমরা তার কারণ বুঝতে পারি। (২) যেহেতু অ্যারিস্টটল স্পষ্টতই "কেন?" প্রশ্নের উত্তরের অনুসন্ধান হিসাবে একটি কার্যকারণ এর ধারণা করেছেন, তাই একটি কারণকে একটি নির্দিষ্ট ধরণের ব্যাখ্যা হিসাবে বিবেচনা করা কার্যকর হতে পারে। সুতরাং আমরা বলতে পারি A cause itself an explanation. 

ধরুন আপনি মার্কেটে গেলেন সবজি কিনতে। আপনি সেলসম্যান কে জিজ্ঞেস করলেন " শশা কত কেজি? সে উত্তর এ বললো "একদাম একশ'। আগের তুলনায় যদিও শশার দাম বর্তমানে অনেক বেশি, কিছুটা বেশি দাম। আপনি কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা করে আবার জিজ্ঞেস করলেন ' টমেটো কত কেজি? ' টমেটো এবার দাম অনেক, তবে আপনার জন্য একশ' চল্লিশ রাখবো একদাম'। আপনি জিনিস গুলো কিনে নিলেন। এরপর আরও দুজন কাস্টমার আসলো একই সবজি দোকানে। তারা জিজ্ঞেস করলো টমেটো কত কেজি?সেলসম্যান উত্তরে বললো, ' একশ বিশ টাকা রাখা যাবে। আপনি কিছুটা অবাক হয়ে ফিরে তাকালেন এবং দোকানে এসে কেন এই দামের অমিল তা জানতে চাইলেন অতঃপর আপনি দোকানে সবজি ফেরত রেখে টাকা নিয়ে ফেরত চলে আসলেন। ( আজ রাতের খাবার মনে হয় রান্না হবেনা যাইহোক) তো আপনার সাথে এই শ্রেণি বৈষম্যের কারণ হিসেবে অনেক কিছুই ভাবতে পারেন। যেমন হতে পারে সেলসম্যান কোনো মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন অথবা বাকি দুজন সেলসম্যান এর পূর্বপরিচিত ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে যাইহোক না কেন অবশ্যই একটি সাধারণ ঘটনার একটি কারণ আপনি খুজবেন। অর্থাৎ আমরা দেখতে পাচ্ছি

  1.  " প্রতিটি সত্য F এর জন্য, F এর ক্ষেত্রে একটি যথেষ্ট কারণ থাকতে হবে।" 

অর্থাৎ প্রত্যেকটা জিনিসের পেছনে একটি কারণ বা ব্যাখ্যা থাকবে। ব্যাখ্যাটি হবে তার নিজস্ব প্রকৃতির ব্যাখ্যা কিংবা বাহ্যিক কোনো কিছুর ব্যাখ্যা। যেমন ধরুন, আজ আপনার বিয়ে , শহরের সবচেয়ে সুন্দরী, গুণবতী এবং রিলিজিয়াস মেয়ের সাথে আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে। বাসায় হাজারো মেহমান, সবাই খুশী, আপনি তো খুশির চোটে জ্ঞান হারানোর অবস্থা, সব কাজ শেষে অবশেষে আপনার বিয়ে সম্পন্ন হলো, নিদ্রাহীন রজনী অতিবাহিত করার জন্য বিছানায় গেলেন, তৎক্ষনাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল এবং আপনার ঘুম ভেঙ্গে গেল, চোখ কাচুমাচু করতে করতে উঠে দেখলেন, রাত ৩ টা বাজে, যা দেখেছেন সবই ছিলো স্বপ্ন, তো এই স্বপ্ন দেখার পেছনে নিশ্চয়ই একটা কারণ থাকবে। হতে পারে আপনি আপনার বিয়ে নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত বা অন্যান্য নানা কারণ থাকতে পারে।


সবকিছুর একটা ব্যাখ্যা প্রয়োজন এটা কি ফ্যালাসি অফ কম্পোজিশন নয়? অনেক সময় কোন একটি জিনিস বা বিষয়ের কোন একটি অংশের জন্য কোন তথ্য সত্য হলেও, সামগ্রিক বিষয়টির জন্য সেটি সত্য নাও হতে পারে। Aristotle তাঁর Sophistical Refutations গ্রন্থে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন ধরুন, পানি আমাদের ভিজিয়ে দেয়, সেটি আমরা পান করি। পানি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনও আমাদের ভিজিয়ে দিতে পারে বা হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনও আমরা পান করতে পারবো। বরঞ্চ, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা যেই পদার্থটি গঠিত হয়, সেটি পানি হয়ে থাকলে শুধুমাত্র তখনই সেটি আমাদের ভিজিয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং তখনই সেটি পান যোগ্য হবে। মহাবিশ্বের ভেতর সবকিছুর কারণ আছে তাই বলে সম্পুর্ন মহাবিশ্বের কারণ থাকবে এ কেমন কথা? এটি বোঝার জন্য আমরা একটি ঘটনা কল্পনা করি। ধরুন আপনি এবং আপনার বন্ধু জুলিয়ান এক শীতে ঠিক করলেন এডভেঞ্চার এ বের হবেন। যথারীতি আপনারা বের হয়ে গেলেন সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। উঁচু নিচু রাস্তায় দুই বন্ধু হাটছেন এবং গল্প করছেন, হঠাৎ আপনার চোখে পড়লো চমৎকার একটি স্ফটিক। সূর্যের আলো পড়ায় স্ফটিক টি থেকে রংধনুর সাত রঙ ঠিকরে বের হচ্ছে দেখতে যতটা না সুন্দর হাতে নিলে তার থেকেও বেশি সুন্দর দেখায়। এক পর্যায়ে আপনার মনে হলো এতো সুন্দর দেখতে স্ফটিক নিশ্চয় দামিও হবে ; এই স্ফটিক টি কে ফেলে গেল? আপনি ভাবতে লাগলেন অতঃপর আপনার বন্ধু জুলিয়ান আপনার কাধে হাত রেখে বললো এতো কি দেখছিস? চল আয় " এখনো অনেক পথ বাকি। আপনি উল্টোমুখে জিজ্ঞেস করলেন " এই সুন্দর স্ফটিক টা এখানে এলো কিভাবে তাই ভাবছি ' বন্ধু তৎক্ষনাৎ উত্তর দিলো, এটা কেউ এখানে আনেনি, চলতো। জুলিয়ান মজা করে বললেও আপনি নিশ্চয়ই তার কথায় সেটিস্ফাই হবেন না কেননা আপনার র‍্যাশনাল মাইন্ড একটি যৌক্তিক অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা চায়। হেন তেন ভাবে তাকে বোঝানো যাবে না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটি কারণ আবশ্যক। এবার চিন্তা করুন তো স্ফটিক টি যদি ২০ মিটার লম্বা একটি গোলক হয় তবে কি এর অস্তিত্বের পেছনের কারণ জানতে চাওয়ার কৌতুহল আপনার কমে যাবে? মোটেই না বরং এতো বড় সুন্দর একটা জিনিস কিভাবে এখানে আসলো এ নিয়ে আপনার কৌতুহল আরও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। যদি স্ফটিক টি মহাবিশ্ব সমপরিমাণ বা তার থেকেও বেশি বড় হয় তথাপি আপনার কারণ বা ব্যাখ্যা খোজার প্রবণতা কিন্তু বাড়বে বৈ কমবে না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও আমরা যে কারণ খুজি তা নিতান্তই অবান্তর কোনো চিন্তা নয়। এটি স্বতসিদ্ধ যৌক্তিক একটি চিন্তা।  


কোয়ান্টাম কজালিটি: 

অনেকের ধারণা হচ্ছে ' কোয়ান্টাম ফ্লাকচুয়েশন এ ভার্চুয়াল পার্টিকেল কোনো কারণ ছাড়াই অস্তিত্বে চলে আসে। এর উদাহরণ হিসেবে তারা যা দেখায় তা হচ্ছে Radio active decay বা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় এর বিষয়টি। আসলেই কি তাই?

মূলত আইসোটোপ কার্বন-14 থেকে কার্বন-12 পর্যন্ত একক পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের সময় কিভাবে কি হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করার কোনো উপায় নেই।

"তেজস্ক্রিয় ক্ষয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স দ্বারা নির্ধারিত হয় - যা সহজাতভাবে সম্ভাব্য। সুতরাং কোন নির্দিষ্ট পরমাণু কখন ক্ষয় হবে তা বের করা অসম্ভব, কেননা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় সম্পুর্ন র‍্যান্ডম একটি অবস্থা। এক্ষেত্রে কার্যকারণ অজানা থাকে অর্থাৎ আমরা কার্যকারণ কখন ঘটবে তা বলতে পারব না। (৩) 

তাত্ত্বিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ ক্যাসলাভ ব্রুকনার কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে কার্যকারণ কে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, 

 ধরুন আপনার সামনে একসারি ডমিনো সাজানো আছে। ১০ টি অথবা ৫০ টি। আপনি যখন ই আলতো করে প্রথম ডমিনো টি ফেলে দেবেন আস্তে আস্তে বাকিগুলো ও পরতে থাকবে একের পর এক। A থেকে B ডমিনো এরপর B থেকে C এবং B ডমিনোর থেকে A ডমিনো স্বাধীন। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকারণ এর উদাহরণ। তবে কোয়ান্টাম জগতে A ডমিনোর পতনের ফলে B ডমিনো পরবে নাকি C ডমিনো তা নির্ণয় করা যায় না উপরন্তু ডমিনোর পতন A থেকে শুরু হবে নাকি B থেকে তা জানা থাকে না। অর্থাৎ কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে কার্যকারণ অনির্ধারিত থাকে বা অজানা থাকে। (৪) 

রয়্যাল সোসাইটিতে থেকে প্রকাশিত নতুন গবেষণা বলছে কার্যকারণ তত্ত্ব সবক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং তা সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। 

প্রফেসর ডি আরিয়ানো ২০১৮ সালে রয়্যাল সোসাইটিতে প্রকাশিত তার পেপার " causality re established " গবেষণায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে কার্যকারণ তত্ত্ব নিয়ে বলেন, 

আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি যে কার্যকারণ কোয়ান্টাম তত্ত্বের একটি উপপাদ্য এবং এটি ফলসিফায়েবল এবং প্রেডিকশন তৈরিতে সক্ষম যার ফলে কার্ল পপারের ডিমার্কেশন ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী কার্যকারণ সবক্ষেত্রেই বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। (৫) 


Reference: 

১.Aristotle, Physics 194 b17–20; see also Posterior Analytics 

71 b9–11; 94 a20.

২. F]or a full range of cases, an explanation which fails to invoke all four causes is no explanation at all."—Falcon, Andrea. [2006] 2019

৩. Protection and Dosimetry An Introduction to Health Physics. https://doi.org/10.1007/978-0-387-49983-3

৪. Caslav Brukner Causality in a quantum world.

DOI.org/10.1063/PT.6.1.20180328a

৫.D’Ariano, G. M. (2018). Causality re-established. Philosophical Transactions of the Royal Society A: Mathematical, Physical and Engineering Sciences, 376(2123), 20170313.




Comments