কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট ( প্রারম্ভিক সূচনা)

 ন্যাচারাল থিওলজিতে কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট বা বিশ্বতাত্ত্বিক যুক্তি হলো cosmos বা জগতের জ্ঞান কে (logos) কাজে লাগিয়ে যুক্তির মাধ্যমে স্রষ্টার অস্তিত্ব কে খোজার চেষ্টা। বিশ্বতাত্ত্বিক যুক্তির আলোকে কার্যকারণ (causation), ব্যাখ্যা (explanation), পরিবর্তন (change), গতি (motion) , নির্ভরযোগ্যতা (contingency) এছাড়াও সমগ্র বাস্তুজগতের সসীমতার উপর ভিত্তি করে একজন স্রষ্টার অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা সম্ভব। Kalam Cosmological Argument (KCA) মূলত কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর মডিফাইড ভার্সন। কালাম নামটা এসেছে মধ্যযুগীয় ইসলামিক স্কলাস্টিসিজমের মধ্যে দিয়ে। 


হিস্ট্রি:

কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এসেছে 'প্রাইম মুভার' বা 'unmoved mover' অর্থাৎ কারণবিহীন কারণের ধারণা থেকে। এরিস্টটল তার 'physics' বইয়ের চ্যাপ্টার ৮ এবং 'metaphysics' বইয়ের চ্যাপ্টার ১২ তে prime mover নিয়ে আলোকপাত করেছেন। '' তার মতে, জগতের সম্পূর্ণতা এবং সুশৃঙ্খলার জন্য একজন অমর, অনন্ত, অপরিবর্তনীয় একজন থাকবেন যিনি আল্টিমেটলি এই জগতের অস্তিত্বের কারণ ''।[১] পরবর্তীতে বাইজেন্টাইন গ্রিক ফিলোসোফার জন অব আলেকজান্দ্রিয়া খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০ শতকের দিকে জগতের শাশ্বততার বিপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে কালাম কে উন্নত করেন। [২] ইসলামিক স্বর্ণযুগে গ্রীক দর্শনের এই কালাম সুন্নি ট্র‍্যডিশনের মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিকদের নজরে আসলে অনেকেই এটাকে নিজেদের মতো করে এডোপ্ট করে নেন এবং ডেভেলপ করতে থাকেন। ঐতিহাসিকভাবে মুসলিম ধর্মতাত্ত্বিক এবং দার্শনিকদের মধ্যে কালামের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এবং উন্নতি সাধন করেছিলেন আল কিন্দি এবং আল গাজ্জালী। [৩] ১১ শতকে গাজ্জালীর পর ১২ শতকের মধ্যভাগে থমাস একুইনাস ফিনটিউড অব কজাল চেইন ( কার্যকারণের সম্পর্কের সসীমতা) ইনফিনিট রিগ্রেস (অসীম পুনরাবৃত্ত) এর উপর ভিত্তি করে The Five ways ( পাঁচটি পন্থা) প্রকাশ করেন। এসকল দার্শনিকদের কাজের উপর ভিত্তি করে ঊনবিংশ শতাব্দীর আমেরিকান এনালাইটিক ফিলোসোফার উইলিয়াম লেন ক্রেইগ কালাম কসমোলজি আর্গুমেন্ট এর মডার্ণ ভার্সন নিয়ে আসেন। উইলিয়াম লেন ক্রেইগ এর দুটো পিএইচডি থিসিস এর মধ্যে একটি ছিলো কালাম কসমোলজি আর্গুমেন্ট নিয়ে The Kalam Cosmological Argument for the Existence of God' নামে যা প্রকাশিত হয় ১৯৭৭ সালে। ১৯৭৯ সালে ক্রেইগ কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর ইতিহাস নিয়ে বই লিখেন 'Kalam Cosmological argument: From Plato to Leibniz ' নামে। তার বইয়ের মূল বিষয় ছিলো জেনোর প্যারাডক্স এবং কান্টের ফার্স্ট এন্টিমনির মাধ্যমে কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর প্রেমিসগুলোর ডিফেন্স। পরবর্তীতে ২০০০ সালে আবারও KCA নিয়ে তার বই বের হয়। Blackwell Companion to Natural theology র একটি ৬০০ পেইজের বইতে স্রষ্টার অস্তিত্বের জন্য ৯-১০ টি দার্শনিক যুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় সেখানে ক্রেইগ জেমস ডি সিনক্লেয়ার নামক দার্শনিকের সাথে কোলাবোরেশানে কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর নতুন ডিফেন্স নিয়ে আসেন যেখানে কালামের প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রেমিসের জন্য বিস্তারিত আলোচনা এবং সমালোচনার জবাব দেয়া হয়েছে। সমসাময়িক দর্শনভিত্তিক আলোচনায় ধর্মতাত্ত্বিক দর্শনে কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট একটি শক্তিশালী আর্গুমেন্ট হিসেবে পরিচিত। 


মূল যুক্তি

কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্টকে মূলত দুইভাবে উপস্থাপন করা যায় এই দুই ধরনের এপ্রোচকে কালামের দুটো ভিন্ন ভার্সন বলে থাকে অনেকে যদিও দুটোর উদ্দেশ্য একই। যাইহোক কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর প্রেমিস বা অনুসিদ্ধান্ত হচ্ছে দুটি। লিবনিজের কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট এর থেকে ভিন্ন, সেটা পরে আলোচনা করা যাবে। ইমাম গাজ্জালীর কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্ট অনুযায়ী -

১. Whatever begins to exist has a cause (অস্তিত্বের জন্য যা কিছুর শুরু আছে সবকিছুর একটি কারণ রয়েছে) 

২. Universe Began to exist (মহাবিশ্বের একটি শুরু রয়েছে) 

Conclusion:  therefore, the universe has a cause of It's beginning. (মহাবিশ্বের অস্তিত্বের শুরুর জন্য একটি কারণ রয়েছে) 

*স্রষ্টার অস্তিত্ব রয়েছে। 


1. Whatever Begin to exist has a cause ( অস্তিত্বের জন্য শুরু আছে এমন সবকিছুর একটি কারণ রয়েছে) 

দার্শনিক লেইবনিজের ফর্মুলেট করা কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্টের ক্ষেত্রে অস্তিত্বের জন্য সবকিছুর একটি ব্যাখ্যা রয়েছে বলা হলেও [PSR] সমসাময়িক কালাম কসমোলজিক্যাল আর্গুমেন্টে অস্তিত্বের জন্য শুরু আছে এমন একটি সীমানা বেধে দেয়া হয়েছে। আমরা যা কিছু অস্তিত্বে দেখি সবকিছুর একটি শুরু রয়েছে এবং সবকিছুর অস্তিত্বের একটি কারণ বিদ্যমান। এক্ষেত্রে আমরা ইনডাকশন ব্যবহার করতে পারি। ইনডাকশন একটি দার্শনিক মেথড যার মাধ্যমে আমরা কোনো উপসংহারের সত্য হওয়ার পক্ষে রিজনিং প্রোভাইড করতে পারি। যেমন, ধরুন, একটি সাইকেল কিংবা একটি গাছ এগুলোর অস্তিত্বের শুরু আছে, এবং কারণ ও আছে। এটা গেল একটা অংশ। আরেকটা বিষয় হলো ইন্টুইশন। আমরা এটা স্বতসিদ্ধ ভাবে জানি যে কারণ ছাড়া কিছু ঘটে না। কেন কার্যকারণ বা ব্যাখ্যা স্বতসিদ্ধ তা বোঝার জন্য আমরা একটি ঘটনা কল্পনা করি। ধরুন আপনি এবং আপনার বন্ধু জুলিয়ান এক শীতে ঠিক করলেন এডভেঞ্চার এ বের হবেন। যথারীতি আপনারা বের হয়ে গেলেন সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে। উঁচু নিচু রাস্তায় দুই বন্ধু হাটছেন এবং গল্প করছেন, হঠাৎ আপনার চোখে পড়লো চমৎকার একটি স্ফটিক। সূর্যের আলো পড়ায় স্ফটিক টি থেকে রংধনুর সাত রঙ ঠিকরে বের হচ্ছে দেখতে যতটা না সুন্দর হাতে নিলে তার থেকেও বেশি সুন্দর দেখায়। এক পর্যায়ে আপনার মনে হলো এতো সুন্দর দেখতে স্ফটিক নিশ্চয় দামিও হবে ; এই স্ফটিক টি কে ফেলে গেল? আপনি ভাবতে লাগলেন অতঃপর আপনার বন্ধু জুলিয়ান আপনার কাধে হাত রেখে বললো এতো কি দেখছিস? চল আয় " এখনো অনেক পথ বাকি। আপনি উল্টোমুখে জিজ্ঞেস করলেন " এই সুন্দর স্ফটিক টা এখানে এলো কিভাবে তাই ভাবছি ' বন্ধু তৎক্ষনাৎ উত্তর দিলো, এটা কেউ এখানে আনেনি, চলতো। জুলিয়ান মজা করে বললেও আপনি নিশ্চয়ই তার কথায় সেটিস্ফাই হবেন না কেননা আপনার র‍্যাশনাল মাইন্ড একটি যৌক্তিক অর্থপূর্ণ ব্যাখ্যা চায়। হেন তেন ভাবে তাকে বোঝানো যাবে না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে একটি কারণ আবশ্যক। এবার চিন্তা করুন তো স্ফটিক টি যদি ২০ মিটার লম্বা একটি গোলক হয় তবে কি এর অস্তিত্বের পেছনের কারণ জানতে চাওয়ার কৌতুহল আপনার কমে যাবে? মোটেই না বরং এতো বড় সুন্দর একটা জিনিস কিভাবে এখানে আসলো এ নিয়ে আপনার কৌতুহল আরও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। যদি স্ফটিক টি মহাবিশ্ব সমপরিমাণ বা তার থেকেও বেশি বড় হয় তথাপি আপনার কারণ বা ব্যাখ্যা খোজার প্রবণতা কিন্তু বাড়বে বৈ কমবে না। এ থেকে আমরা বুঝতে পারি মহাবিশ্বের ক্ষেত্রেও আমরা যে কারণ খুজি তা নিতান্তই অবান্তর কোনো চিন্তা নয়। এটি স্বতসিদ্ধ যৌক্তিক একটি চিন্তা। 


এখন প্রশ্ন আসতে পারে একক ক্ষেত্রে কার্যকারণ তত্ত্ব কাজ করে বলে সবক্ষেত্রেই কেন কাজ করবে? এটা কি ফ্যালাসি অফ কম্পোজিশন নয়? অনেক সময় কোন একটি জিনিস বা বিষয়ের কোন একটি অংশের জন্য কোন তথ্য সত্য হলেও, সামগ্রিক বিষয়টির জন্য সেটি সত্য নাও হতে পারে। Aristotle তাঁর Sophistical Refutations গ্রন্থে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। যেমন ধরুন, পানি আমাদের ভিজিয়ে দেয়, সেটি আমরা পান করি। পানি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। তার মানে কিন্তু এই নয় যে, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনও আমাদের ভিজিয়ে দিতে পারে বা হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনও আমরা পান করতে পারবো। বরঞ্চ, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন দ্বারা যেই পদার্থটি গঠিত হয়, সেটি পানি হয়ে থাকলে শুধুমাত্র তখনই সেটি আমাদের ভিজিয়ে দিতে সক্ষম হবে এবং তখনই সেটি পান যোগ্য হবে। মহাবিশ্বের ভেতর সবকিছুর কারণ আছে তাই বলে সম্পুর্ন মহাবিশ্বের কারণ থাকবে এ কেমন কথা? মূলত আমরা কখনোই দাবি করিনা যেহেতু মহাবিশ্বের সবকিছুর কারণ আছে তাই সম্পূর্ণ মহাবিশ্বের কারণ আছে বরং আমরা বলি অস্তিত্বের জন্য শুরু রয়েছে এমন সবকিছুর কারণ রয়েছে। 

কোয়ান্টাম কজালিটি এক্ষেত্রে কি ভিন্ন? 

অনেক এথিস্ট সাইন্টিস্ট এটা মনে করেন, মাইক্রোস্কোপিক লেভেলে সাব এটমিক পার্টিকেলগুলো জেনারেল ল' ব্রেক করে কারণ ছাড়া অস্তিত্বে আসতেই পারে। যেমন, ভার্চুয়াল পার্টিকেল কিংবা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় ইত্যাদি। যদিও বিষয়টা ভুল ধারণার উপর বিস্তৃত। মূলত আইসোটোপ কার্বন-14 থেকে কার্বন-12 পর্যন্ত একক পরমাণুর তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের সময় কিভাবে কি হবে তা ভবিষ্যদ্বাণী করার কোনো উপায় নেই।

"তেজস্ক্রিয় ক্ষয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স দ্বারা নির্ধারিত হয় - যা সহজাতভাবে সম্ভাব্য। সুতরাং কোন নির্দিষ্ট পরমাণু কখন ক্ষয় হবে তা বের করা অসম্ভব, কেননা তেজস্ক্রিয় ক্ষয় সম্পুর্ন র‍্যান্ডম একটি অবস্থা। এক্ষেত্রে কার্যকারণ অজানা থাকে অর্থাৎ আমরা কার্যকারণ কখন ঘটবে তা বলতে পারব না। [৪]

তাত্ত্বিক কোয়ান্টাম পদার্থবিদ ক্যাসলাভ ব্রুকনার কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে কার্যকারণ কে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, 

"ধরুন আপনার সামনে একসারি ডমিনো সাজানো আছে। ১০ টি অথবা ৫০ টি। আপনি যখন ই আলতো করে প্রথম ডমিনো টি ফেলে দেবেন আস্তে আস্তে বাকিগুলো ও পরতে থাকবে একের পর এক। A থেকে B ডমিনো এরপর B থেকে C এবং B ডমিনোর থেকে A ডমিনো স্বাধীন। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকারণ এর উদাহরণ। তবে কোয়ান্টাম জগতে A ডমিনোর পতনের ফলে B ডমিনো পরবে নাকি C ডমিনো তা নির্ণয় করা যায় না উপরন্তু ডমিনোর পতন A থেকে শুরু হবে নাকি B থেকে তা জানা থাকে না। অর্থাৎ কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে কার্যকারণ অনির্ধারিত থাকে বা অজানা থাকে। "[৫] বোঝাই যাচ্ছে কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে ঘটনাসমুহ র‍্যান্ডম হওয়ায় কার্যকারণ অনির্ধারিত থাকে অথবা অজানা থাকে। এটা কখনোই বলে না যে কার্যকারণ তত্ত্ব কোয়ান্টাম ওয়ার্ল্ডে ভিত্তিহীন অথবা কার্যকারণ ব্যতীত ঘটনা ( uncaused event) থাকতে পারে। ওকে তাহলে প্রথম অনুসিদ্ধান্ত বেশ জোরালো ভাবেই সঠিক। 


2. Universe Began to exist ( মহাবিশ্বের একটি শুরু রয়েছে) 

দ্বিতীয় প্রেমিসের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হচ্ছে মহাবিশ্বের শুরু থাকতে হলে মহাবিশ্বের অতীতের হিস্ট্রি ফাইনাইট হতে হবে কারণ যদি মহাবিশ্ব ফাইনাইট না হয়ে অসীম কাল ধরে অস্তিত্বে থাকে তাহলে আপাত দৃষ্টিতে মহাবিশ্বের 'শুরু' হওয়ার জন্য কোনো আলাদা মূহুর্ত থাকা অসম্ভব, অর্থাৎ মহাবিশ্ব অসীম হলে এর কোনো শুরু থাকবে না। এক্ষেত্রে মহাবিশ্বের প্রি ইটার্নিটি বা পূর্বকালীন অসীমতা নিয়ে একটি এনালজি দিয়েছেন। 

ধরুন, শনি গ্রহ যখন সূর্যের চারদিকে একবার আবর্তিত হয় তখন বৃহস্পতি গ্রহ সূর্যের চারদিকে আবর্তন করে ২ বার। অর্থাৎ বৃহস্পতি গ্রহের আবর্তন শনি গ্রহের আবর্তন এর দ্বিগুণ হয়ে থাকে সবসময়ই। সুতরাং যতবার শনি এবং বৃহস্পতি সূর্যের চারদিকে আবর্তন করবে তাদের মধ্যে ২/১ এর পার্থক্য থাকবেই এবং এটাই যৌক্তিক এবং সত্য। শনি এবং বৃহস্পতির আবর্তন রেখা নিম্নরুপ, 

শনি →→→ বৃহস্পতি

১ → →→ ২ 

২ →→→ ২n = ৪ 

৩ →→→ ২n = ৬ 

n →→→ 2n =....

অর্থাৎ শনি গ্রহের আবর্তন এর তুলনায় বৃহস্পতির আবর্তন সংখ্যা সবসময়ই দ্বিগুণ থাকবে। এবার চিন্তা করুন কি হবে যদি দুটো গ্রহই অসীমকাল ধরে সূর্যের চারদিকে আবর্তন করে? শনির আবর্তন গতি ও অসীম হয়ে যাবে বৃহস্পতির আবর্তন গতিও অসীম! অর্থাৎ দুই গ্রহের Rotational rate = Infinite! যা সুস্পষ্ট বৈপরীত্য বা কন্ট্রাডিকশন তৈরি করে। কেননা আমরা দেখেছিলাম শনি এবং বৃহস্পতির আবর্তনে ২/১ পার্থক্য সবসময়ই থাকবে। কিন্তু অসীমকাল ধরে আবর্তনের ফলে দুই গ্রহের আবর্তন এর মধ্যে আর কোনো পার্থক্য থাকছেইনা! 

অর্থাৎ আপনি যদি জিজ্ঞেস করেন কোন গ্রহটি সবচেয়ে বেশি অরবিট সম্পন্ন করেছে? উত্তর হবে দুটোই। [৬] অথচ আমরা আগেই দেখেছি তাদের আবর্তনের মধ্যে পার্থক্য ২/১। অর্থাৎ বৃহস্পতি সবসময়ই সবচেয়ে বেশি অরবিট সম্পন্ন করবে। কিন্তু অসীম সংখ্যক বার আবর্তন এর ফলে এখানে কন্ট্রাডিকশন দেখা যাচ্ছে যার ফলে কনক্রিট বাস্তবতায় অসীম এর অস্তিত্ব থাকাটা অসম্ভব। এখানে হয়তো কেউ বলতে পারে আমরা প্রতিটি ন্যাচারাল নাম্বারের বিপরীতে জোড় সংখ্যা নিয়ে সেট তৈরি করলে হয়তো হিসেবটা আসলেই বৈপরীত্যমূলক মনে হতো না। যেমন: ঘুর্ণন সংখ্যা: 

১→ ২

২→ ৪

৩→ ৬ ad infinitum অর্থাৎ একটি অসীম সংখ্যক স্বাভাবিক সংখ্যার সেট এবং একটি অসীম জোড় সংখ্যার সেট ই হলো শনি এবং বৃহস্পতির রোটেশনের হার। এখানে সমস্যা হচ্ছে বৃহস্পতির প্রতিটি ঘুর্ণন শনির তুলনায় দ্বিগুণ থাকবে অর্থাৎ এদের মধ্যে সর্বদাই পার্থক্য হবে ২/১। অসীম সেটের ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক সংখ্যার সেট ( ১,২,৩...) এবং একটি জোড় অসীম সংখ্যার সেট ( ২,৪, ৬...) এদের মধ্যে বিয়োগ করার ফলাফল কি হবে? ধরে নেই, স্বাভাবিক সংখ্যার সেট ℵ° এবং জোড় সংখ্যার সেট ℵ১ এখন এদেরকে ভাগ করলে কিন্তু আরেকটি স্বাভাবিক সংখ্যার সেট ই আসে, কনক্রিট ওয়ার্ল্ডের সাথে কোরেস্পন্ডেবল কোনো রেজাল্ট এখানে আসেনা। অর্থাৎ ট্রান্সফাইনাইট এরিথমেটিক এখানেও অসফল। যার ফলে অসীম সংখ্যক ইভেন্ট অসম্ভব।  বিস্তারিত বুুঝতে হিলবার্ট হোটেল প্যারাডক্স এবং জগতের অসীমতার অসম্ভাব্যতা এই আর্টিকেলটি পড়া  যেতে পারে। 


তাহলে দেখা যাচ্ছে আমাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্ত সঠিক। আর যেহেতু এটি মোডাস টলেন্স আর্গুমেন্ট , এই আর্গুমেন্টের অনুসিদ্ধান্ত সঠিক হলে উপসংহার অবশ্যম্ভাবীভাবেই সঠিক হবে। তাহলে অস্তিত্বের জন্য যার শুরু আছে তার কারণ আছে। মহাবিশ্বের শুরু আছে, সুতরাং এর কারণ আছে। তাহলে মহাবিশ্বের কারণটি কি আরেকটি কারণের উপর নির্ভরশীল হবে? না এমনটি হলে সেই কারণের কারণ খুজতে হবে ফলে অসীমের দিকে প্রত্যাবর্তন ( infinite regress) করতে হবে যা আবার অসীমতার দিকে নিয়ে যায় এবং যা সম্ভব নয়, সুতরাং মহাবিশ্বের অস্তিত্বের কারণটি অসৃষ্ট। যেহেতু সেটি অসৃষ্ট সেহেতু তাঁর অস্তিত্ব শাশ্বত এবং অবশ্যম্ভাবী কারণ কোনো কিছু নিজেকে নিজে অস্তিত্ব দান করতে পারে না। তাহলে সেই 'কারণ' টি হলো অসৃষ্ট একটি কারণ। এবং যেহেতু তা মহাবিশ্ব কে সৃষ্টি করেছে সেহেতু তাঁর সৃষ্টি করার 'ক্ষমতা' আছে অর্থাৎ কারণটি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং যেহেতু শাশ্বত সুতরাং তাঁর ক্ষমতাও শ্বাশ্বত, এবং মহাবিশ্ব কে সৃষ্টির যে চিন্তা তা সেই কারণের আছে বিধায় সেই কারণটি কোনো জড় বস্তু নয় বরং চেতনাসম্পন্ন। অর্থাৎ কারণটি হলো শ্বাশ্বত, চিন্তাশীল এবং অসীম ক্ষমতাধর, যা স্রষ্টার বৈশিষ্ট্য। সুতরাং মহাবিশ্বের একটি কারণ রয়েছে। এবং এই কারণটিই স্রষ্টা। 



রেফারেন্স:

1. the Metaphysics, from Book 7, Chapter 4 

2. Duncan, S., Analytic Philosophy of Religion: Its History Since 1955 (2010), Humanities-Ebooks, p. 165.

3. Al Ghazali, Kitab al lqtisad, with a foreword by Î. A. Çubukçu and H. Atay (Ankara: University of Ankara Press, 1962), pp. 15–16.

4. Radiation Protection and Dosimetry.An Introduction to Health Physics. https://doi.org/10.1007/978-0-387-49983-3 

5. Caslav Brukner Causality in a quantum world. doi.org//10.1063/PT.6.1.20180328a



Comments

Popular

ইনফিনিট রিগ্রেস - অসীমের দিকে প্রত্যাবর্তন