সমকামিতার ব্যবচ্ছেদ: বৈজ্ঞানিক এবং দার্শনিক আলোকপাত পর্ব: ১
*সমকামিতা, রুপান্তরকামিতা এবং বহু ফ্যালাসির উপাখ্যান।
সমকামিতা নিয়ে খানিকটা আলোচনা করা যাক। আলোচনার বিষয়াদির মধ্যে সমকামিতা, ট্রান্স এসকল বিষয়ই ইনক্লুড থাকবে তবে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে বঙ্গদেশীয় প্রয়াত নাস্তিক লেখক, ব্লগার অভিজিৎ রায়ের 'সমকামিতা' বইটিকে একটু রিভাইস করে নেয়া যাক। পরবর্তীতে আমরা একাডেমিয়ায় প্রচলিত আর্গুমেন্টস নিয়ে বিস্তর আলাপ আলোচনায় ঢুকব।
প্রয়াত নাস্তিক, ব্লগার অভিজিৎ রায়ের সমকামিতা বইয়ের প্রথম অধ্যায় ( প্রকৃতি ও সমকামিতা) এই অংশে তিনি সমকামিতার বিরুদ্ধে বিদ্যমান প্রাকৃতিক যুক্তিগুলোকে যেমন:- ন্যাচারালি রিপ্রোডাকশনই হলো মুখ্য উদ্দেশ্য যার ফলে সমকামিতা প্রাকৃতিক হতে পারেনা। এসকল আর্গুমেন্ট কে তিনি আপিল টু ন্যাচারাল ফ্যালাসি দাবি করেছেন। এখানে যে সমস্যাটি উদ্ভুত হয় তা হলো জর্জ মুরের এক্সাম্পল, তিনি বলেছেন, ধরুন কিছু বিষাক্ত মাশরুম
প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এর মানে তো এই নয় যে তা আসলেই ভালো। সুতরাং এটা ন্যাচারালিষ্টিক ফ্যালাসি। বিষয়টা এমন নয় মোটেও, যখন প্রাকৃতিক বা স্বভাবজাত হিসেবে কোনোকিছুকে উপস্থাপন করা হয় তখন সেটাকে 'আশেপাশের পরিবেশে' উপলব্ধ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়না। উদাহরণস্বরুপ, ''চুরি করা খারাপ'' এই মোরাল ফ্যাক্ট আপনি, আমি সকলেই জন্ম থেকেই জানি অর্থাৎ এটি সত্য, অথচ এই সত্য কাজটি কিন্তু খারাপ। তাই স্বভাবজাত/ বাই ডিফল্ট (without any Social impact) হলে তা সত্য হতে পারে, ভালো হতেই হবে এমন নয়। এখানে পার্থক্যটি হলো Nature এবং Innateness এর মধ্যে। তাছাড়া হোমোসেক্সুয়ালির ক্ষেত্রে স্রেফ প্রকৃতিতে পাওয়া যায় তাই এটা ভালো কিংবা এটাই সত্য এমনটা মোটেও দাবি করা হয় না, এখানে দুটো বিষয় একসাথে কাজ করে, একটি হলো innateness এবং অন্যটি necessity. পরবর্তীতে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। অভিজিৎ রায় তার বইয়ের এই প্রথম অংশে প্রানীজগতের বেশকিছু অযৌনজননের উদাহরণ টেনে এনেছেন এবং দেখানোর চেষ্টা করেছেন পার্থেনোজেনেসিস ঘটে এমন প্রাণীরা নিজেরাই যেহেতু রিপ্রোডাকশনে সক্ষম সেক্ষেত্রে যৌনজননের তুলনায় তাদের রিপ্রোডাক্টিভ সাক্সেস বেশি। এক্ষেত্রে এই উদাহরণের মাধ্যমে তিনি যদি বোঝাতে চেয়ে থাকেন ট্রান্স কিংবা হোমো যে-কেউ চাইলেই এভাবে কাজ সেরে ফেলতে পারে তাহলে তা বেশ সমস্যাজনক। কেননা মানবজাতি এবং অন্যান্য প্রাণীদের মধ্যে পার্থক্য রাখা আবশ্যক। অন্যান্য প্রানীকুল পার্থেনোজেনেসিসে ( সঙ্গী ছাড়াই বংশবৃদ্ধি) সক্ষম হলেও মানুষ তো দূরের কথা, ম্যামালিয়ানরাও পার্থেনোজেনেসিসে সক্ষম নয় কারণ, জেনেটিক ইমপ্রিন্ট। (১) জেনেটিক ইমপ্রিন্ট কি কেন কিভাবে এবং পার্থেনোজেনেসিস আসলেই রিপ্রোডাক্টিভ সাকসেস দেয় কিনা সেসব পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে সামনে এগোনো যাক।
উক্ত বইয়ের অধ্যায় ২ এবং ৩ এ উভলিঙ্গ এবং রুপান্তর নিয়ে কথা বলা হয়েছে। উভলিঙ্গ নিয়ে আলোচনায় আমাদের কোনো সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে রুপান্তরকামী তাও আমরা পরবর্তী পর্বের জন্য তুলে রাখলাম। বইয়ের ৪ নং অধ্যায় (বিবর্তনের দৃষ্টিতে সমকামিতা) তে লেখক Richard E. Michod & John Maynard Smith এর বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন যে জিনগত প্রকরণ দিয়ে সেক্স কে ব্যাখ্যা করাটা সনাতনী এবং এই প্রচেষ্টা সঠিক নয়। উল্লেখ্য বিংশ শতকের এসব লেখা অনেক আগেই বাতিল হয়েছে (২) তথাপি ২০১১ সালে এসে লেখক কি উদ্দেশ্যে এদেরকে cite করলেন তা বোধগম্য হলো না। একই অংশে পরবর্তীতে তিনি বলার চেষ্টা করলেন সমকামিতা যেহেতু ইভোলুশনারি ডেড এন্ড হিসেবে দেখা হয় সেক্ষেত্রে ডারউইনবাদীরা বিবর্তনকে সমকামিতার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করায় যা মোল্লাতন্ত্রের অনুরুপ। আশ্চর্যান্বিত বিষয় হলো নিজেদের বিকৃত আইডিওলজির বিরুদ্ধে যাওয়ায় তাদের পূজিত বিবর্তনবাদীদের এপ্রোচের জন্য তাদের সরাসরি মোল্লা বানিয়ে দিলেন! যাইহোক লেখক যেখানে প্রথম অধ্যায়ে দাবি করেছেন ন্যাচারাল দাবি করাটা ন্যাচারালিস্টিক ফ্যালাসি ( যদিও তা ভুল) সেখানে এই অংশে এসে তিনি নিজেই প্রকৃতিতে এতো এতো সমকামিতা দেখা যায় তাই এটিকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায়না বলে বসলেন এবং সাইট করলেন ব্রুস ব্যাগমিলের একটি বই যেখানে সমকামী এবং রুপান্তর কামী ১৬০ টি প্রজাতির প্রাণীকে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি প্রানীজগতের মধ্যে বিশেষ করে শিম্পাঞ্জির মধ্যে ( আমাদের তথাকথিত আত্মীয়) বিষমকামীতা, সমকামিতা ইত্যাদি দেখানোর মাধ্যমে বলার চেষ্টা করেছেন এগুলো 'অতি সাধারণ'। এছাড়াও মানুষের মধ্যে সমকামি মানুষের স্ট্যাটিসটিক্যাল ডেটা গুলোকেও তিনি প্রমাণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। ওনার এই অধ্যায়ে দেখানো এনিমেল কিংডমের সমকামিতা কোনো দিক থেকেই সমকামিতা প্রাকৃতিক বা সহজাত এটা প্রমাণ করেনা। মানুষের ক্ষেত্রে তো মোটেও নয়, আমাদের আলোচনা তা নিয়েই। তিনি আরেকটু ক্লোজ রিলেশনের জন্য শিম্পাঞ্জি এবং বনোবো নিয়ে কথা বলেছেন। উল্লেখ্য যে প্রাণীকুলের একটি বা একাধিক গোষ্ঠীতে যা দেখা যায় তা সার্বিকভাবে সবার জন্য প্রযোজ্য , এবং আগ বাড়িয়ে তা যৌক্তিক এমন দাবি করাটা কম্পোজিশন ফ্যালাসি। অর্থাৎ এক বা দুই জায়গায় যা সত্য তা সব জায়গাতেই সত্য। এছাড়াও স্ট্যাটিস্টিক্স লাইকলিহুড ইনফারেন্স হিসেবে ভালো, প্রমাণ হিসেবে নয়। যেমন ধরুন, দুনিয়ার প্রায় সব ক্রিমিনাল একত্রিত হয়ে দাবি করলো চুরি তারা করবেই, এখন এই হিউজ পরিমাণ চোর আছে বলে তো আর চুরি করা ভালো হয়ে যাবে না। অবশ্যই আলাদা কারণ বা ব্যাখ্যা থাকতে হবে। এই অধ্যায়ে লেখক Andrea Camperio Ciani 'র গবেষণা দেখিয়ে বললেন যে পরিবারে সমকামি পুরুষ রয়েছে সেই পরিবারে উক্ত পুরুষের মাতৃ সম্বন্ধীয় আত্মীয়দের মধ্যে রিপ্রোডাক্টিভ সাকসেস হেটেরোসেক্সুয়ালদের তুলনায় বেশি। এখানে বলে রাখা ভালো, সমকাম এবং নারীদের উর্বরতা রিলেটেড স্টাডি অসংখ্য হলেও এই স্টাডিগুলোর এজাম্পশন হলো fecundity compensation hypothesis. উল্লেখ্য বিষয় হলো এই ধরনের গবেষণায় কোনো মেকানিজম উঠে আসেনি এবং সম্পর্ক এবং কার্যকারিতার একটি পার্থক্য রয়ে গেছে। সো কল্ড ফ্রাটার্নাল বার্থ অর্ডার ইফেক্ট অনুযায়ী যে পরিবারে বড় ভাইয়ের সংখ্যা বেশি তাদের ছোট ভাইদের মধ্যে 'সমকামী' হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ সংক্রান্ত অসংখ্য স্টাটিস্টিক্যাল রিসার্চ থাকলেও এগুলো সরাসরি কারণ এমন প্রমাণ নেই। মজার বিষয় হলো এসকল বিষয়কে একত্রে 'সংযোগ' করার জন্য সেই জেনেটিক ফ্যাক্টরের দিকেই ফিরে যেতে হয় এবং সেগুলো হলো INAH এর আকার, X cromosome genetic marker, Xq28 ইত্যাদির উপর। এগুলো নিয়ে পরবর্তীতে আরও আলোচনা করা হবে। একই অধ্যায়ে লেখক বলেছেন বিবর্তনীয় দৃষ্টিতে 'কিন সিলেকশন' এর মাধ্যমে সমকামিতা কে ব্যাখ্যা দেয়া যায়, এছাড়াও এমনটাও হতে পারে সমপ্রেম হতে পারে বিবর্তনের উপজাত। কিন সিলেকশন নিয়ে বলা যাক। ধরুন যে নারীরা সমকামী পুরুষের সাথে থাকাটাকে অধিকতর নিরাপদ মনে করে, কিংবা শিকারে যাওয়ার সময় নারীর সাথে সমকামী পুরুষ গেলে সেক্ষেত্রে উক্ত পরিবারে পরকীয়ার কোনো আশংকা থাকতো না এবং শিকার বেশি করা যেত। এই দিকটিকেই বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানে কিন সিলেকশন বলা হয়। তবে এই কিন সিলেকশন যে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে সেই বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানের মূল উপপাদ্যই কিন্তু অপ্রমাণিত। (৩) আরও মজার বিষয় হলো মনোবিজ্ঞানকে যারা বিবর্তনীয় কাঠামোতে ব্যাখ্যা করতে যান তারাই মূলত Gay Uncle hypothesis, কিন সিলেকশন বিষয়গুলো নিয়ে আসেন। তবে দুঃখের সাথে বলতে হয় এই কথিত 'ভালো' দিক গুলো একটাও কারণগতভাবে এক নয় এবং এটার প্রকৃত অর্থে কোনো 'ফাংশন' নেই। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানে সমপ্রেম যদি কিন সিলেকশন কিংবা বিবর্তনীয় প্রক্রিয়ার উপজাত হয় তবে তা (তাদের) সংজ্ঞামতে, গার্বেজ। এখন এই আবর্জনা কে আপনি 'গুরুত্বপূর্ণ' কেন বলবেন?
বইয়ের পঞ্চম অধ্যায়ে ( গবেষণার রুদ্ধ দুয়ার খুললেন যারা) লেখক সমকামিতার ইতিহাস নিয়ে খানিকটা আলোকপাত করেছেন, ইতিহাস নিয়ে আলাপ পরে হবে। এরপর তিনি উক্ত অংশে সিগমুন্ড ফ্রয়েড, আলফ্রেড কিনসে র বিষয়বস্তু তুলে ধরে দাবি করলেন Kinsey scale ( এই স্কেল হলো যৌনতার পরিমাপের জন্য কিনসের ব্যবহৃত মেথড) মানুষের মধ্যে যৌনতা গুলোকে 0-6 হিসেবে উপস্থাপন করে যেখানে দেখা যায় মানুষ কেবল বিষমকামী কিংবা সমকামি নয় এর চেয়েও বেশি কিছু। এবং এটি প্রমাণ করে সমকামিতা স্বভাবগত। প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, কিনসের রিপোর্ট এ স্যাম্পলিং বায়াস ছিলো খুবই মারাত্মক। তার গবেষণার ক্ষেত্রে ভলান্টিয়ার হিসেবে সে বেছে নিয়েছিল পুরুষ প্রস্টিটিউটদের এবং যারা কারাগারে বন্দী এবং সমকামে আগে থেকেই লিপ্ত। (৪) যদিও রিসেন্ট টাইমে অনেক গবেষণা Kinsey scale কে গবেষণার সুবিধার্তে কাঠামোগত বিষয়ে ব্যবহার করে থাকে, এতে করে সমকামিতা স্বভাবগত তা প্রমাণ হয়না। কারণ অন্যান্য অসংখ্য ফ্যাক্টর এখানে অনুপস্থিত। স্ট্যাটিস্টিক্যাল এভিডেন্স নিয়ে পূর্বের অধ্যায় নিয়ে আলোচনায় কিছুটা বলা হয়েছে।
বইয়ের ষষ্ঠ অধ্যায়ে ( গে মস্তিষ্ক এবং গে জিনের খোঁজে) লেখক সাইমন লেভি এবং অন্যান্য গবেষকের নারী পুরুষের মধ্যে সমকামী এবং বিষমকামীদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশের পার্থক্যের কিছু গবেষণা উল্লেখ্য করে বলতে চেয়েছেন মস্তিষ্কের এই এই অংশ গুলোকে সমকামিতার ফ্যাক্টর হিসেবে দাঁড় করানো যেতে পারে। পুরো বইয়ের মধ্যে এই বিষয়টি অত্যন্ত শিশুসুলভ একটি ধারণা। কারণ এনাটমিক্যালি নারী পুরুষের ব্রেইন আলাদা এটি ব্রেইন এনাটমিতে স্বীকৃত বিষয়। [5] যদিওবা মস্তিষ্কের ঘনত্বের সাথে এর ফাংশনের বিষয়টি স্বীকৃত নয় মোটেও। [6] এক্ষেত্রে সাধারণভাবেই বলা যায় সো কল্ড 'গে ব্রেইন' বলে কিছু নেই। এই অংশের পরবর্তীতে তিনি 'টুইন স্টাডি' বিষয়টা তুলে ধরেছেন। যেখানে দেখা যায় পরিবারের এক ভাই সমকামী হলে অন্য ভাইদের ( টুইনদের মধ্যে) সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় বহুগুণ। এ থেকে দাবি করা হয় খুব সম্ভবত জিনের সঞ্চারণের ফলে এটি হয়। যদিও J.M Bailey র এসব স্টাডির রেস্পন্সে গবেষকগণ বলেন ''এটি জিনের সঞ্চারণের জন্য নয় বরং টুইনদের একই পরিবেশে বেড়ে ওঠার জন্য হয়। [7] বিষয়টি অভিজিৎ রায় নিজেও স্বীকার করেছেন। এরপর 'গে জিনের খোজে' লেখক ডীন হ্যামারের গবেষণাকে সাইট করেন যে গবেষণা অনুযায়ী সমকামিতার জন্য ক্রমোজোমে জেনেটিক মার্কার হিসেবে Xq28 পাওয়া গেছে। যদিও মূল রিসার্চ পেপার পড়লে বোঝা যাবে হ্যামার কখনোই এই ফাইন্ডিংসকে সমকামিতার সাথে সরাসরি সংযোগ আছে বলে দাবি করেননি। হ্যামারের একই কাজ স্যাম্পল সাইজ বাড়িয়ে করার পর দেখা গেছে যে হ্যামারের আগের উপসংহার যে Xq28 মার্কারটিতে সমকামিতার প্রভাব তৈরি হওয়ার বিষয়টি ভুল প্রমাণিত হয়। [8] এছাড়াও ওল্ডার ব্রাদার হাইপোথিসিস নিয়েও বলা হয়েছে যদিও এগুলো সেই ৪র্থ অধ্যায়ের female fecundity effect এর সময় আলোকপাত করা হয়েছে।
বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে (সমকামিতা কি জেনেটিক রোগ?) নামক এই অধ্যায়ে লেখক সমকামিতা কোনো মানসিক ব্যধি নয় এ নিয়ে আমেরিকান সাইক্রিয়াটিস্ট এসোশিয়েশান, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল এসোশিয়েশান এসকল তালিকাদি হতে হোমোসেক্সুয়ালিটিকে মানসিক রোগ এর তালিকা থেকে বাদ দেয়াকে তুলে ধরেছে। এ নিয়ে আমরা পরের পর্ব গুলোতে ব্যাপক আলাপ আলোচনা টানব। এরপর হোমোসেক্সুয়ালিটি কে 'জেনেটিক ডিসঅর্ডার' ধরে নিয়ে লেখক পপুলেশন জেনেটিক্সকে এক হাত নিয়ে বললেন ' সমকামিতা যদি জিনগত কোনো ডিফেক্ট হতো তবে পিউরিফায়িং সিলেকশন ( ন্যাচারাল সিলেকশনের একটি মোড, যা ক্ষতিকর মিউটেশন কে জনগোষ্ঠী থেকে দূর করে দেয় [9] যদিও সমকামিতা কোনো সেক্স লিংকড ডিসঅর্ডার নয় তবুও লেখকের ভাড়ামীর বিপক্ষে বলে রাখা ভালো, এমন অসংখ্য ডিলেটেরিয়াস মিউটেশন আছে যা ন্যাচারাল সিলেকশন বাতিল করতে পারেনা [10] এনিওয়ে, জেনেটিক ডিজিজ আর মেন্টাল ডিজিজ বা মানসিক রোগ কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। এখন সিজোফ্রেনিয়ার জন্য কোনো জেনেটিক লিংকড পাওয়া যায় না এর মানে এই না এটি রোগ হিসেবে গণ্য হবে না। উল্লেখ্য যে আমেরিকান গে এক্টিভিস্ট চার্লস সিলভার্স্টেইন গে & লেসবিয়ান মেন্টাল হেলথ জার্নালে ২০০৮ এ বলেছেন, ❝ গে এক্টিভিস্টদের পলিটিকাল প্রেশার চলাকালীন আমি সোসাইটির একটি বৃহৎ পরিবর্তনের সাক্ষ্য হচ্ছিলাম, এটি দেখাচ্ছিলো যা আমি বহুকাল ধরে বিশ্বাস করেছিলাম, physiatry দাঁড়িয়ে আছে নৈতিকতা এবং রাজনীতির উপর, বিজ্ঞানের উপর নয়। ❞ [11]
এখানে হমোদের 'নৈতিকতা' নিয়ে ফিলোসফিক্যাল৷ ডিবেট হতেই পারে, তবে এটি সুস্পষ্ট যে DSM বা মনোরোগের তালিকা হতে এই সমপ্রেমের বাতিল হওয়ার 'বৈজ্ঞানিক' ভিত্তি নেই, আছে গে এক্টিভিস্টদের রাজনৈতিক আস্ফালন।
অভিজিতের সমকামিতা বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ের পর বাকি তিনটি অধ্যায় গে এর ইতিহাস এবং মুভমেন্ট রিলেটেড, যা আমাদের কনসার্ন নয় তাই সেগুলো বাদ থাকুক। পরবর্তী পর্বে একটি একটি করে বিস্তারিত আলোচনায় এগোনো যাবে। কষ্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ। জাযাকাল্লাহু খইরন।
রেফারেন্স:
1. "Genomic imprinting: the emergence of an epigenetic paradigm". Nature Reviews. Genetics. 12 (8): 565–575.
2.Sex is Binary/Wikipedia
3.Lloyd, Elizabeth A. (1999). "Evolutionary Psychology: The Burdens of Proof" (PDF). Biology and Philosophy. 19 (2): 211–33.
4.LIFE. Time Inc. 1948-08-02.
5.Ruigrok AN, Salimi-Khorshidi G, Lai MC, Baron-Cohen S, Lombardo MV, Tait RJ, Suckling J (February 2014). "A meta-analysis of sex differences in human brain structure". Neuroscience and Biobehavioral Reviews (Meta-analysis). 39 (100): 34–50. doi:10.1016/j.neubiorev.2013.12.004.
6.Nisbett, Richard E.; Aronson, Joshua; Blair, Clancy; Dickens, William; Flynn, James; Halpern, Diane F.; Turkheimer, Eric (February 2012). "Intelligence: New findings and theoretical developments". American Psychologist (Review). 67 (2): 130–159.
7.Lidz, T. (1993). Reply to'A Genetic Study of Male Sexual Orientation'. Archives of general psychiatry, 50(3), 240-240.
8.Rice, G., Anderson, C., Risch, N., & Ebers, G. (1999). Male homosexuality: Absence of linkage to microsatellite markers at Xq28. Science, 284(5414), 665-667.
9. ম্যাক্রো ইভোলিউশনের ব্যবচ্ছেদ- A parabolic History of Evolution. Asief Mehedi. Page:83-81
10. Couce, A., Caudwell, L. V., Feinauer, C., Hindré, T., Feugeas, J. P., Weigt, M., ... & Tenaillon, O. (2017). Mutator genomes decay, despite sustained fitness gains, in a long-term experiment with bacteria. Proceedings of the National Academy of Sciences, 114(43), E9026-E9035.
11.Silverstein, C. (2008). Are You Saying Homosexuality Is Normal?. Journal of Gay & Lesbian Mental Health, 12(3), 277-287.

Comments
Post a Comment